কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাফিক ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং বৈচিত্রময় ট্রাফিক ব্যবস্থা। সব সময়ই কলকাতার রাস্তায় নামলে একটাই প্রশ্ন ঘোরে, এত যানজট কেন? অফিস টাইম ছাড়া ছুটির দিনেও যানজট অব্যাহত থাকে। কলকাতাসহ তার পার্শ্ববর্তী এলাকার গাড়ির চাকা যেন এগোয় কচ্ছপের গতিতে।
এছাড়াও কলকাতায় ব্যক্তিগত যানবাহন ও বাইকের সংখ্যাও বেড়েছে ভয়ঙ্কর ভাবে। কলকাতার রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও সেভাবে শহরের রাস্তার পরিসর কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে এই যানজট বিরক্তির কারণ নয় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কর্মজীবন থেকে শুরু করে ব্যবসায়।
তবে কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা একটি ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরীর চাপ সামলাতে বর্তমান সময়ে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে উন্নত সিগনালিন ব্যবস্থা ও মানুষের সচেতনতার জন্য অনেকটাই উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে কলকাতা সবচেয়ে এগিয়ে। এছাড়াও কলকাতা পুলিশ ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে, যেখানে অনলাইন জরিমানা পরিশোধ ও ওয়ান-ওয়ে নিয়ম মেনে চলা হয়।
ওভার স্পিড ভায়োলেশন ডিটেনশন ক্যামেরা, এআই-ইনফিউজড ট্রফিক মনিটরিং, স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট রিকগনিশন প্রযুক্তি এবং ভালো পুরনো অন-ফিল্ড পুলিশিং সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলকাতাসহ এর পার্শ্ববর্তী শহরাঞ্চলের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাইজ করেছে।
কলকাতা পুলিশসহ রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত ট্রাফিক ওয়ার্ডেন ও সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কাজ করা হয়। শহরের ট্রাফিক জ্যাম কমানোর জন্য বিভিন্ন ফ্লাইওভার ব্যবহার করা হয়।
কলকাতা শহরের বড় রাস্তায় বর্তমানে কোন ই-রিকক্সা চলতে দেওয়া হয় না। পুলিশ দেখলেই জরিমানা করা হয়। এ কারণে ট্রফিক জ্যাম অনেকটাই কম হয়। শহরের রাস্তার বা-দিক দিয়েই বাইক চালানো হয়। কঠোর ট্রাফিক আইনের জন্য সচরাচর সিগন্যাল ভাঙ্গতে পারে না যানবাহন চালকরা।
এ বিষয়ে বাসচালক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, কলকাতার শহরের ফ্লাইওভার থাকায় ট্রাফিক জ্যাম অনেকটাই কমে গেছে। কোনো রাস্তায় যদি কাজ হয় তাহলে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ফ্লাইওভার অথবা অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে গাড়ি চলাচল করে। ফলে ট্রাফিকের সমস্যাটা অনেকটাই কমেছে।
অপর এক ট্যাক্সি চালক শান্তনু মন্ডল জানান, এখন আর কলকাতায় আগের মতো ট্রাফিক জ্যাম হয় না। সিগনালিং ব্যবস্থা এতটাই উন্নত করা হয় যে ট্র্যাফিক জ্যাম কম হয়। বিশেষ যদি কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে তাহলে ট্রাফিক জ্যাম না হওয়ার মতোই। যানবাহন চালকদের সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে। পুলিশের ক্রমাগত প্রচারের জন্যই এই সাফল্য এসেছে।
শ্যামনগর থেকে কলকাতায় আসা চাকরিজীবী রাজা সাহা জানিয়েছেন, কলকাতায় প্রচুর আন্ডার পাস হয়েছে, ফ্লাইওভার হয়েছে, ট্রাফিক সিগন্যাল উন্নত মানের করেছে, কলকাতা পুলিশের কঠোর ট্রাফিক আইনের জন্য জ্যাম অনেকটাই কমেছে। তবে কলকাতায় জ্যাম আছে আগের তুলনায় অনেকটাই কম। রাস্তাঘাটের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে জ্যামটাও কম বলা যায়।
ডিডি/টিটিএন