দেশজুড়ে

গাইবান্ধার সেই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আরেক রোগীকে মারধরের অভিযোগ

গাইবান্ধায় জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সাগর মিয়া (৩০) নামে আরেক রোগীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেই ওই রোগীকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি একই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মানসিক ভারসাম্যহীন মুর্শিদ হক্কানীকে মারধর মামলায় পুলিশকে সাক্ষ্য দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

গত বছরের ২৮ আগস্ট গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফারাজিপাড়া গ্রামের মুর্শিদ হক্কানীকে (৩৭) গাইবান্ধা শহরের ভি-এইড রোডের ‘জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে স্বজনরা মুর্শিদ হক্কানীকে দেখতে যান। এসময় মুর্শিদ হক্কানীর শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা, ছেলাফুলা ও আঘাত-জখমের চিহ্ন দেখা যায়। পরে বাড়িতে গিয়ে মুর্শিদ হক্কানী কেন্দ্রের ভেতরে থাকা অবস্থায় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন ও মারধরের বর্ণনা দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাঁধন (৩৫), লাবিব (৩২), শিহাব (৩৫), আতিফ (৩৬) ও তালহা (৩৫) তাকে কেন্দ্রের একটি আধাপাকা ঘরে নিয়ে মুখের ভেতর কাপড় ঢুকিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করেন।

এদিকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে ২৭ ফেব্রুয়ারি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার যুবকের বড় ভাই আওরঙ্গ হক্কানী বাদী হয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সাতদিন পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে শুনানি শেষে আসামিদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

আনোয়ার আল শামীম/এফএ/এএসএম