আন্তর্জাতিক

ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ, ফের ধরনায় মমতা

সামনেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ফের ধরনায় বসলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেন মমতা। ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে কয়েক লাখ বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই অভিযোগ তুলে এবার লাগাতার ধরণায় বসেছেন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে ধরনা মঞ্চের শুরুতে তিনি লেখেন, বাংলা-বিরোধী কেন্দ্রীয় সরকারের এসআইআর-এর মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদে ও বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে এই শান্তিপূর্ণ ধরনা অবস্থান।

এদিন দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে ওই ধরনা মঞ্চে এসে পৌঁছান মমতা। ওই ধরনা মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, বেচারাম মান্না, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, দলের একাধিক সংসদ সদস্য, বিধায়ক এবং কাউন্সিলর। সংগীতশিল্পী কবীর সুমন, কবি জয় গোস্বামীর মতো বিশিষ্টজনদেরও দেখা যায় এই ধরনা মঞ্চে।

বেঁচে থাকা সত্ত্বেও এসআইআর তালিকায় যাদেরকে মৃত বলে ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন- এমন ২২ জনকে এই মঞ্চে হাজির করানো হয়। মমতার বক্তব্য, এই লজ্জা রাখার জায়গা নেই। নির্লজ্জ বেহায়া বিজেপি পার্টি এবং তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন মনে রাখবেন আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি, তাই আমরা খুঁজে বের করি।

প্রায় ২০ বছর আগে ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের কৃষি জমি রক্ষার দাবিতে এই মেট্রো চ্যানেলে প্রথমবারের জন্য ধরনায় বসেছিলেন মমতা। তখন তিনি ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেত্রী। মূলত সেই ধরনা মঞ্চ থেকেই রাজ্যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রীর এবারের লক্ষ্য নির্বাচন কমিশন বেআইনিভাবে যে ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে বা বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে তা রুখে দেওয়া।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় এসআইআর চূড়ান্ত তালিকা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর মোট ৬৩.৬৬ লাখ নাম (প্রায় ৮.৩% ভোটারের) বাদ পড়েছে। এতে ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লাখ থেকে কমে ৭ কোটি ৪ লাখের বেশি হয়েছে। ৬০ লাখের বেশি ভোটারকে ‌‘বিচারাধীন’ বিভাগে রাখা হয়েছে। আইনি যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা স্থির হবে, যা নির্বাচনী সমীকরণকে আরও প্রভাবিত করতে পারে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

ডিডি/টিটিএন