জয়পুরহাটে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দুই লিটার তেল বিক্রি নির্ধারণ করে দিলে পাম্প মালিকরা সেটি মানছেন না। তারা জনপ্রতি ২০০ টাকার অকটেন বিক্রি করছেন। এতে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরে অনেক পাম্পে ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও নিয়ম করা হয়েছে একজন মোটরসাইকেল আরোহী ২০০ টাকার বেশি অকটেন বা পেট্রোল কিনতে পারবেন না। বাজার দর অনুযায়ী ২০০ টাকায় ২ লিটারের চেয়ে বেশ কম পরিমাণ তেল মিলছে।
বিপিসি এক জরুরি নির্দেশনায় জানিয়েছে, সাময়িকভাবে মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার এবং মাইক্রোবাস বা জিপে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নেওয়া যাবে। তবে পাম্পগুলো লিটারের হিসাব বাদ দিয়ে সরাসরি টাকার অঙ্কে তেল বিক্রি করছে।
মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করেন, ২০০ টাকার তেলে তাদের এক দিনের চলাচলও সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে যারা রাইড শেয়ারিং বা ডেলিভারি পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাদের জন্য এ সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক চালক কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তেল ক্রয় করতে আসা গ্রাহক আরাফাত নগরের শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি দুই লিটার পেট্রোল নিতে এসেছিলাম কিন্তু এখানে ২০০ টাকার পেট্রোল দিচ্ছে। আর ফিলিং স্টেশনগুলো সরকারি বিধি মানছে না।
শহরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বেলাল হোসেন বলেন, অকটেন দিয়ে আমি গাড়ি চালাই। কিন্তু এখন টাকা দিয়েও অকটেন মিলছে না। সরকার বলেছেন, দেশে তেলের সংকট নেই কিন্তু স্থানীয়ভাবে ফিলিং স্টেশনগুলো তেল সংকট তৈরি করছে।
মেসার্স তাজ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার সজল বর্মণ বলেন, ডিজেল ও পেট্রোল আছে কিন্তু অকটেন খুব সীমিত। ইমারজেন্সি, সরকারি গাড়ি ছাড়া অকটেন তেল দেওয়া নিষেধ রয়েছে। তবে এখানে ডিজেল ও পেট্রোল ২০০ টাকার করে গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মেসার্স উত্তরা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নুরুজ্জামান মণ্ডল বলেন, অকটেন খুব সীমিত রয়েছে। কারণ প্রশাসনের জন্য তেল রাখা আছে। র্যাব থেকে অকটেন তেল চাওয়া হয়েছে। বাহিরে অকটেন তেল দেওয়া হচ্ছে না।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, জেলায় তেল নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। অকটেন তেল বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলেই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাহফুজ রহমান/আরএইচ/এমএস