অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধের অজুহাতে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

ঢাকার বাজারে এখন সীমিত পরিমাণে সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে কোম্পানিগুলো। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, তারা অর্ডার করেও কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।  

এ পরিস্থিতিতে বাজারে ও মুদি দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও অধিকাংশ জায়গায় পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল মিলছে না।  

যদিও কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা সরবরাহ আগের মতো স্বাভাবিক রেখেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ ঘিরে দাম বাড়তে পারে- এই আশঙ্কায় চাহিদার চেয়ে বেশি তেল কিনতে শুরু করেছেন ভোক্তারা। যে কারণে সংকট হতে পারে।

তবে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ, যুদ্ধ ও ঈদের বাড়তি চাহিদা সামনে রেখে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে কোম্পানিগুলো। প্রতিবারই দাম বাড়ানোর আগে এমন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

রোববার (৮ মার্চ) সরেজমিনে রামপুরা, মালিবাগ ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানে বোতলজাত তেল কম। পাড়া-মহল্লার কোনো কোনো দোকানে বোতলজাত তেলই মিলছে না।  

রামপুরার ভাই ভাই স্টোরের জামাল হোসেন বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কোম্পানিগুলো ঠিকমতো তেল দিচ্ছে না। আমরা কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে শুনেছি তেলের দাম বাড়বে। নতুন দাম কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ সমস্যা থাকবে।

আরও পড়ুনতেল মজুত আছে, কিন্তু রেশনিং করে চলতে হবে: জ্বালানিমন্ত্রী এখনো ২৫ দিনের অকটেন মজুত, তারপরও পাম্পে ভিড় 

মালিবাগ বাজারে কুমিল্লা স্টোরের রাহিম মোল্লা বলেন, ওরা (কোম্পানি) দাম বাড়ানোর আগে প্রতিবার এমন করে। এটা ওদের স্টাইল হয়ে গেছে। এখন অর্ডার নিচ্ছে না। বারবার তাগাদা দিলে ৩-৪ কার্টনের জায়গায় এক কার্টন দেয়।  

বোতলজাত তেলের স্বল্পতায় সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে খোলা তেলের দাম লিটারে বেড়েছে চার থেকে সাত টাকা। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭৬ থেকে ১৭৮ টাকা। অর্থাৎ, লিটারে বেড়েছে চার থেকে সাত টাকা। প্রতি লিটার পাম অয়েলের সরকার নির্ধারিত দাম ১৬৬ টাকা হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা বা এর চেয়ে বেশি দরে।  

আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সঙ্গে ভোজ্যতেলের দামও বাড়ছে। এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে কোম্পানিগুলোর ওপর। তবে সরবরাহ ঠিকঠাক দেওয়া হচ্ছে। 

এ বিষয়ে একাধিক কোম্পানির দায়িত্বশীলদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম প্রায় ১০০ ডলার বেড়েছে প্রতি টনে। এসব কারণে আমদানি কিছুটা কম, তবে এখনো আগের মতো সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।  

বরং তিনি বলেন, দাম বাড়বে এ শঙ্কায় ক্রেতারা বেশি কিনছেন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মজুত প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে বাজারে তেলের সংকট হচ্ছে।  

তবে সরবরাহ কম থাকলেও বোতলজাত তেলের গায়ের দাম এখনো বাড়েনি। বাজারে এখন পাঁচ লিটারের বোতলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৫৫ টাকা। সপ্তাহখানেক আগেও ডিলার থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে পারতেন ৯২০ টাকা করে। তারা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতেন ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে। কিন্তু এখন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৯৪০ থেকে ৯৫০ টাকা। ফলে ভোক্তাদের কাছে তারা ৯৫৫ টাকায় বিক্রি করছেন। ফলে আগে সবোর্চ্চ মূল্য থেকে যে ছাড় ভোক্তারা পেতেন, সেটা এখন কম পাচ্ছেন না। এছাড়া প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়।  

এনএইচ/কেএসআর