চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে নিজেও রাস্তায় ছিলেন জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, জুলাই বিপ্লব কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। জুলাই বিপ্লব নিয়ে যারা ফায়দা করতে চান তাদেরও শনাক্ত করা হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, অনেক লোক আছে জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত ছিল না, এখন বড় জুলাই বিপ্লবী হয়ে গেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার পেছনে জুলাই বিপ্লবকে খাটো বা ধ্বংস করার উদ্দেশ্য ছিল। কোনো ভালো কিছু আমরা গ্রহণ করতে চাই না। সেটাকে নষ্ট করার জন্য এই কাজগুলো করা হচ্ছে….সুতরাং সাবধান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি চাঁদাবাজ ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে অভিযানের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইজিপি বলেন, আমরা ইনশাল্লাহ অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবো। যে তালিকা আসছে সেটা অনেকগুলো এজেন্সি থেকে পেয়েছি। এটা আবার আমরা সবকিছু মিলিয়ে কমন যেগুলো, সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো।
শনিবার ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অপরাধ কি না জানতে চাইলে পুলিশ প্রধান বলেন, একটা বিষয় আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করা হবে না। কিন্তু নাগরিককে আইন মানতে হবে, আইন নিজের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। তাহলে দেশ একটা অকার্যকর দেশে পরিণত হবে। আইনের শাসন বাস্তবায়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কাজ করবে।
তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ বিভিন্ন অজুহাতে রাস্তায় নেমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে এবং সন্ত্রাস উসকে দিলে মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন আলী হোসেন।
মব সন্ত্রাসের বিষয়ে প্রশ্ন করলে পুলিশ প্রধান বলেন, আমাদের দেশে যে আনএমপ্লয়মেন্ট আছে, এটার কারণে যে সংগঠনই কোনো প্রোগ্রামের ডাক দেয়, সেখানে লোকের সমস্যা হয় না। কিশোর গ্যাং, অলরেডি তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা শুরু করেছি। বিশেষ করে মাদকের সঙ্গে রিলেটেড লোকজনই এই জিনিসগুলোর সঙ্গে বেশি জড়িত। আবার কিছু লোক ফায়দা লোটার জন্য লুটপাট এবং বিভিন্ন রকমের অপকর্মের জন্য মব করে। মূল মব তৈরিকারী যারা, তাদেরও লিস্ট তৈরি করছি। সে যত ক্ষমতাবানই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশের বদলি ও পদায়নের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, সৎ, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তারা অবশ্যই মূল্যায়িত হবেন।
২ লাখ ১৫ হাজার সদস্যের এই বাহিনীকে একটি পরিবার হিসেবে তুল ধরে তিনি বলেন, যদি দুষ্ট কেউ থাকে, সে বিদায় হবে। আর যারা সৎ, দক্ষ ও যোগ্য, তারাই বাংলাদেশ পুলিশের জন্য কাজ করবে।
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন বা আগের পোশাকে ফিরতে চাওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, সরকার পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
টিটি/এমআইএইচএস