জাতীয়

রাজধানীর সড়কে ফাঁকা ভাব, সীমিত ব্যক্তিগত গাড়ি-মোটরসাইকেল

ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে। জ্বালানি তেল সংগ্রহে সরকার সীমা নির্ধারণ করায় রাজধানীতে কমে গেছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যবহার। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল দেওয়ার সীমা আরোপ করায় অনেকেই আপাতত ব্যক্তিগত গাড়ি বের না করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) রাত সোয়া ৮টার দিকে হাতিরঝিল হয়ে আজিমপুরের পথে দেখা যায়, সড়কে হাতেগোনা কয়েকটি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। সাধারণত এ সময়ে সড়কে যানজট দেখা যায়, তার ছিটেফোঁটাও নেই।

রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম নিয়মিত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলেও গত কয়েকদিন ধরে পাম্পে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তিনি গাড়ি ব্যবহার বন্ধ রেখেছেন। অসুস্থ শ্বশুরকে দেখতে যাওয়ার জন্য তিনি দুই সন্তানকে মতিঝিল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে আজিমপুরে মেট্রোরেলে পাঠাতে বাধ্য হন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‌‘যুদ্ধের প্রভাবে তেলের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় আপাতত কয়েকদিন গাড়ি ব্যবহার করছি না। পাম্পে গেলেই দীর্ঘলাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা— তারপরও তেল মেলে না।’

এমন সিদ্ধান্ত শুধু শফিকুলের নয়— গুলশান, রমনা, তেজগাঁও, হাতিরঝিল ও লালবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বহু বাসিন্দাই ব্যক্তিগত কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের ব্যবহার সীমিত করছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সড়কচিত্রে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হাসেম মিয়া বলেন, ‘গত সপ্তাহেও এই সময় হাতিরঝিলে দাঁড়াতে হতো। আজ রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা। গুলশান থেকে মগবাজার আসতে যেখানে এক ঘণ্টা লাগতো, আজ সময় লেগেছে মাত্র ১০ মিনিট।’

আজিমপুরে ভিআইপি বাসের চালক মনির হোসেন বলেন, ‘পাম্পে আগের মতো সহজে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে বাস চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।’

প্রায় দিনই নীলক্ষেত সিগন্যাল এলাকায় ৮–১০ জন মোটরবাইক চালক ভাড়ার অপেক্ষায় থাকলেও আজ রাত ৯টায় দেখা গেছে এর অর্ধেকেরও কম। বাইক চালক তসলিম বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের অনেকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। দিনে যে আয় হতো, এখন তার অর্ধেকও হচ্ছে না। সামনে ঈদ— কীভাবে চলবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

এমইউ/এমএএইচ/