ক্যাম্পাস

ঈদ ঘিরে মানবিক উদ্যোগে ব্যস্ত শাবিপ্রবির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের ছুটি শুরু হতে না হতেই অন্য শিক্ষার্থীরা যখন বাড়ি ফেরায় ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সদস্যদের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখনো ক্যাম্পাসেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

শাবিপ্রবির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কিন’, ‘স্বপ্নোত্থান’ ও ‘সঞ্চালন’র উদ্যোগে বিতরণ করা হচ্ছে ঈদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নতুন পোশাক। মানবিক এই উদ্যোগগুলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নোত্থান’ প্রতি বছরের মতো এবছরও আয়োজন করেছে ‘স্বপ্নোত্থান ঈদ উপহার ২০২৬’ কর্মসূচি। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নতুন পোশাক বিতরণের উদ্দেশ্যে সংগঠনটির সদস্যরা ক্যাম্পাসে টেন্ট বসিয়ে ঈদকার্ড বিক্রি করেন।

কার্ড বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে গত ৬ মার্চ সিলেটের পরগণা বাজার সংলগ্ন মুসলিম বেদে পল্লিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে প্রথম ধাপের ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে সংগঠনটি। যেখানে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা তিনটি বেদে পল্লির মোট ২১টি পরিবারের ৮৬ জন সদস্যের হাতে ঈদের নতুন পোশাক তুলে দেন। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এর মধ্যে ছিল সেমাই, চিনি, গুঁড়া দুধ, চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, ছোলা, তেল, পোলাওয়ের চাল, গরম মশলা ও খেজুর।

শুধু উপহার বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে শিশুদের হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কিন’র (শাব্দিক অর্থ ‘আত্মীয়) উদ্যোগে পালন করা হয়েছে ‘কিন ঈদ আনন্দ ২০২৬’ কর্মসূচি। গত ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির নিজস্ব ‘কিন স্কুল’র ১১৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা ও খাবার বিতরণ করা হয়।

অন্যদিকে গত ৫ মার্চ শাবিপ্রবির আরেকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সঞ্চালন’র উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ‘ঈদ আনন্দ’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ১২৭টি ঈদবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় নারীদের জন্য শাড়ি, পুরুষদের জন্য লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি এবং শিশুদের জন্য নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়।

স্বপ্নোত্থানের সভাপতি মামুন হোসেন বলেন, আমাদের এই উদ্যোগ সফল করতে যেসব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থী সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই কার্যক্রম অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ভূমিকা রেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন ক্যাম্পাসের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা আরও সুদৃঢ় করবে।

‘কিন’র উপদেষ্টা ডা. জায়েদা শারমিন বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। কিন’র এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার চেতনা আরও শক্তিশালী করবে।

ঈদের আগমুহূর্তে শাবিপ্রবির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মানবিক উদ্যোগ ক্যাম্পাসজুড়ে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

এসএইচ জাহিদ/এফএ/জেআইএম