অর্থনীতি

আবাসন খাত বাঁচাতে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চায় রিহ্যাব

দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নীতিগত সহায়তা চেয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। আবাসন খাতের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনসহ সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান। এ সময় সিনিয়র সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়াসহ রিহ্যাবের ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চিঠিতে বলা হয়, আবাসন খাতে সরকার স্বীকৃত একমাত্র শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে রিহ্যাব তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের আবাসন সমস্যা সমাধানে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। দ্রুত নগরায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দেশে আবাসনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

রিহ্যাব জানায়, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি আবাসন খাত প্রায় ২৫০টিরও বেশি শিল্পখাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। তবে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে বর্তমানে এ খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিহ্যাব আবাসন খাতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এ তহবিল গঠন করা হলে নির্মাণ কার্যক্রম সচল রাখা সহজ হবে এবং খাতটি পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ৩০ বছর মেয়াদি আবাসন ঋণ সুবিধা চালু বা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অন্যান্য দেশের মতো শক্তিশালী মর্টগেজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে। রিহ্যাবের প্রস্তাবে ব্যাংকগুলোতে আবাসন ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রথমবারের মতো যারা বাসা কিনবেন তাদের জন্য ‘ফার্স্ট হোম বায়ার স্কিম’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এর আওতায় ডাউন পেমেন্ট কমানো এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব আবাসন উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে রিহ্যাব।

সংগঠনটি বলেছে, গ্রিন বিল্ডিং, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হলে এ খাত আরও আধুনিক ও টেকসই হবে। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে আবাসন প্রকল্পে কম সুদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরবরাহ করা তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাত অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এ খাতে শ্রমিক অসন্তোষও নেই। আবাসন খাত উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে রিহ্যাব।

সংগঠনটি মনে করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে, সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান ক্রয় সহজ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ইএআর/এমএমকে