সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় নির্মিত একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৮টি ঘর হস্তান্তরের আগেই ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় এলাকায় নির্মিত এসব ঘরের পাশের পাড় ধসে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর দুই পাশেই রয়েছে মৎস্য ঘের। ঘরের সামনে ও পেছনের অংশে মাটি ধসে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। পাড় রক্ষায় স্থাপন করা প্যালাসাইডিংয়ের কিছু অংশ কাত হয়ে পড়েছে। ফলে ভাঙন ধীরে ধীরে ঘরের দিকে এগিয়ে আসায় বাসিন্দাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ৫৫ শতক জমির ওপর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য মোট ১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসেবে পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো ঘরগুলো উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
শ্রীউলা এলাকার বাসিন্দা শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই পাড় ধসে পড়া অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জমির ধরন ও আশপাশের ঘেরের প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। দীর্ঘদিন ঘরগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত ঘরগুলো নিরাপদ করে ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, মহিষকুড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই পাশে মাছের ঘের রয়েছে। ঘেরে পানি থাকার কারণে প্যালাসাইডিং এতদিন স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ঘের মালিকরা পানি সেচ দেওয়ায় প্যালাসাইডিং কাত হয়ে পড়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঘের মালিকরা আবার পানি তুললে তখন এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বাড়লে ভাঙনের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষায় দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।
আহসানুর রহমান রাজীব/এনএইচআর/এমএস