আন্তর্জাতিক

তেল-গ্যাস থেকে জ্বালানি ছাড়াও যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি হয়

তেল ও গ্যাসকে সাধারণত জ্বালানি হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে এগুলো হাজারও শিল্প ও ভোগ্যপণ্যের প্রধান কাঁচামাল। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অসংখ্য পণ্যই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল ও গ্যাস থেকে তৈরি হয়।

সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ প্লাস্টিক। পানির বোতল, খাবারের প্যাকেজিং, মোবাইল ফোনের কেসিং থেকে শুরু করে চিকিৎসায় ব্যবহৃত সিরিঞ্জ—এর সবই অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি প্লাস্টিকজাত উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।

পোশাক শিল্পেও তেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পলিয়েস্টার, নাইলন ও অ্যাক্রিলিকের মতো কৃত্রিম তন্তু তৈরি হয় পেট্রোকেমিক্যাল থেকে। এসব উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হয় স্পোর্টসওয়্যার, মোজা, কার্পেটসহ নানা ধরনের পোশাক ও গৃহস্থালি সামগ্রী।

আরও পড়ুন>>ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮৫ দেশে বেড়েছে তেলের দাম, নেই বাংলাদেশতেলের দাম বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম কেন বাড়ে?

প্রসাধনী শিল্পে তেল গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। পেট্রোলিয়াম জেলি (ভ্যাসলিন), লিপস্টিক, লিপবাম, ফাউন্ডেশন বা কনসিলারের মতো বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরিতে পেট্রোলিয়ামজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়।

গৃহস্থালির অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পণ্যও তেলনির্ভর। কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্ট, বাসন ধোয়ার তরল এবং বিভিন্ন ধরনের সারফেস ক্লিনার পেট্রোলিয়ামজাত রাসায়নিক উপাদান থেকে তৈরি।

তেল থেকে তৈরি হয় রং ও বিভিন্ন দ্রাবক। তেলভিত্তিক রং, টারপেনটাইন, পেইন্ট থিনার এবং বার্নিশ তৈরিতেও পেট্রোলিয়ামজাত কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়।

যানবাহনের টায়ার বা জুতার সোল তৈরিতে ব্যবহৃত সিনথেটিক রাবার মূলত পেট্রোকেমিক্যাল থেকে উৎপাদিত। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের রাবার গ্লাভসও একই উৎস থেকে তৈরি হয়।

আরও পড়ুন>>যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্বের তেলবাজারে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড়’ সংকটরেকর্ড উচ্চতা থেকে ‘মাইনাস’ দাম: দুই দশকে তেলের বাজারে নাটকীয় অস্থিরতাট্রাম্প কি পারবেন তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি আটকাতে?

অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্ব খাদ্য উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো সার তৈরিতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই তেল ও গ্যাসের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বরং পোশাক, খাদ্য, প্রসাধনীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্যের দামেও পড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/