জাতীয়

বাংলাদেশসহ ১৬ দেশ-জোটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত

উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৫টি দেশ ও একটি জোটের অর্থনীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশ ও সংস্থার নীতি ও কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে দেশটি।

বুধবার (১১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য আলোচনাকারী সংস্থা ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ-ইউএসটিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১ অনুযায়ী এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

তদন্তের আওতায় থাকা দেশ ও জোট হলো— চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বাণিজ্য প্রতিনিধি গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না যেখানে অন্য দেশগুলো তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের সমস্যাকে রপ্তানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপিয়ে দেয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটির উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ হারিয়েছে বা বিদেশি প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইউএরটিআর জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে মতামত জমা দেওয়ার জন্য ১৭ মার্চ থেকে প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া এ তদন্ত সংক্রান্ত শুনানি আগামী ৫ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন অন্যায্য বিদেশি বাণিজ্য চর্চার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় বিদেশি সরকারের এমন নীতি বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তদন্ত করা যায়, যা অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর বোঝা সৃষ্টি করে।

জেপিআই/ইএ