উত্তর কোরিয়া ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বনাম ইসরায়েল-মার্কিন চলমান যুদ্ধের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অবকাঠামো যদি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে তবে যুদ্ধ শেষে তেহরান আবারও পিয়ংইয়ংয়ের সহযোগিতা চাইতে পারে এবং সেক্ষেত্রে ইরানকে সহযোগীতা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির বিশ্লেষক চো হান-বুম বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে ইরান ও উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা পুনর্গঠনে আবার সহযোগিতা শুরু করতে পারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পিয়ংইয়ং ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের জনগণের নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের অধিকারকে তারা সম্মান করে। একই সঙ্গে তারা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা চালানোও যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য ক্রেতাদের—বিশেষ করে ইরানের—জন্য একটি বার্তা হতে পারে।
ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতার ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান চলাকালে ইরানকে স্কাড-বি ও স্কাড-সি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল উত্তর কোরিয়া। পরে ইরানের শাহাব ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও উত্তর কোরিয়ার নোডং প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অস্ত্র সংগ্রহের বিকল্প সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতেও পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে গোপন সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট/কেসিএনএ
কেএম