রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহায়তা, বন্যার্তদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে ভূমিকা পালন করে সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, পার্বত্য অঞ্চল ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের ক্যাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রেও তাদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মনে করে সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে চতুর্মাত্রিক সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করবে। এতে মাল্টি-ডোমেইন যুদ্ধ সক্ষমতা, স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর শক্তিমত্তা এবং দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বিমানবাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে ফাস্ট ট্র্যাক প্রক্রিয়ায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সক্ষম নৌবাহিনী এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন করা হবে। অন্যদিকে, চলমান সময়ের অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি)’ নীতি কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব হুমকি সম্পূর্ণরূপে দমন করা হবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, মামলার জট হ্রাস ও বিচারপ্রাপ্তি হয়রানি মুক্তকরণ, দুর্নীতিমুক্তকরণে বিচার সেবার আধুনিকায়ন, বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন, জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষায় কাজ করছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ২০টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
ভাষণ শেষে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ছেড়ে যান। ১৫ মার্চ পর্যন্ত সংসদ মুলতবি করা হয়।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান স্পিকার। এ সময় বিরোধী দল জামায়াত ও এই জোটের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি এর মধ্যে দিয়েই সংসদের অধিবেশনে ঢোকেন। তিনি স্পিকারের পাশে বসেন। সংসদে হইচই করতে থাকেন বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যেই বক্তব্য শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
টিটি/এএমএ