শেরেবাংলা মানেই স্লো আর লো উইকেট, সঙ্গে খানিকটা টার্ন। সেই উইকেটে তিন পেসার খেলানো হবে—বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্সের এমন কথা শুনে অনেকেই খানিকটা থমকে গিয়েছিলেন। ভদ্রলোক বলেন কী! মাত্র চার মাস আগে, গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি ম্যাচ ছাড়া বাকি দুই ম্যাচে স্পিন ট্র্যাক বানিয়েই খেলেছিল বাংলাদেশ।
লেগ স্পিনার রিশাদের অসাধারণ ঘূর্ণি, সঙ্গে নাসুম ও মিরাজের ব্যাকআপ। সবমিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে একটি ম্যাচ টাই করেও ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে যদিও সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের অনিন্দ্যসুন্দর ব্যাটিং বড় ভূমিকা রেখেছিল। তবে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে মূল লড়াইটা করেছিলেন বোলাররা, বিশেষ করে স্পিনাররা।
সে বিবেচনায় তিন পেসার খেলানোর পরিকল্পনা শুনে অবাক হওয়ার মতো পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রথম দিনই দেখা গেল, উইকেটে খুব বেশি ঘাস না থাকলেও গতি ও বাউন্স ভালো আছে। অনেক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় উইকেটও বেশ শক্ত।
সেই শক্ত উইকেটেই নিজের বাড়তি উচ্চতা কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ গতির সঙ্গে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিলেন বাংলাদেশের তরুণ সম্ভাবনাময় ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা হয়তো এত দ্রুতগতির বল, বিশেষ করে থ্রি-কোয়ার্টার লেন্থ থেকে অতিরিক্ত বাউন্স ওঠা ডেলিভারি কল্পনাও করেননি।
ফলে সাহিবজাদা ফারহান থেকে শুরু করে নতুন ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেন, এমনকি অভিজ্ঞ সালমান আগারাও কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাহিদ রানার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
নাহিদ রানার সেই দুর্দান্ত স্পেল। যেখানে তিনি ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এনে দেন। ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভূত কোচ মাইক হেসন স্বীকার করে বলেন, ‘নাহিদ রানাই আমাদের হাত থেকে ম্যাচটা নিয়ে গেছে। আমরা তার বোলিংয়ের জবাব দিতে পারিনি।’
অর্থাৎ নাহিদ রানা পেরেছেন, যেখানে অন্যরা খুব বেশি সফল হননি। স্পিনার হিসেবে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজও কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ কি আজও তিন পেসার নিয়েই খেলবে? নাকি নাহিদ রানাকে রেখে মিরাজ ও রিশাদের সঙ্গে আরও একজন স্পিনার যোগ হবে? অনেকের মনেই এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ কম্বিনেশন বদল করবে না, আনা হবে না একাদশেও পরিবর্তন। আগের ম্যাচের মতো আজও অপরিবর্তিত দল নিয়েই মাঠে নামবে স্বাগতিকরা।
তিন পেসার — তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা। সঙ্গে দুই স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন। ব্যাটিং লাইনে থাকবেন তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তৌহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।
এটাও বলা যায়, বাংলাদেশ হয়তো আজও টসে জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানাতে পারে। দুপুরের খর রোদে, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় শেরেবাংলার খটখটে উইকেটে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিয়ে যদি নাহিদ রানার সঙ্গে তাসকিনও জ্বলে ওঠেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
তবে কন্ডিশনটা খুব একটা অনুকূল নয় মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য। তিনি নিজের দক্ষতা ও ভ্যারিয়েশন দিয়ে কিছু আদায় করে নিতে পারলে সেটি আলাদা কথা। এই উইকেট আসলে বেশ শক্ত, যেখানে অতিরিক্ত সুইং পাওয়াটা কঠিন। ময়েশ্চারও নেই বললেই চলে। ফলে গতির ওপর নির্ভর করতে হবে, ভ্যারিয়েশন রাখতে হবে এবং বাড়তি বাউন্স আদায় করার চেষ্টা করতে হবে।
সেই কাজটাই করে সফল হয়েছেন নাহিদ রানা। আজ যদি তাসকিন ও মোস্তাফিজও তার পথে হাঁটেন, তাহলে পাকিস্তানি ব্যাটারদের জন্য কাজটা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পেসাররা শাহিন শাহ আফ্রিদি, ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। এই উইকেটে ঠিকভাবে বল ফেলতে পারেননি। আজ তারা কীভাবে ঘুরে দাঁড়ান, সেটাও দেখার বিষয়। হয়তো পাকিস্তান তাদের রণকৌশল ও লাইন-লেন্থে পরিবর্তন আনতে পারে। এমনকি এই উইকেটে হারিস রউফকেও দেখা যেতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, আজকের ব্যাট-বলের লড়াই কতটা জমে। প্রথম ম্যাচে নাহিদ রানার দুরন্ত বোলিং, এরপর তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং, সবমিলিয়ে বাংলাদেশকে বেশ উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত দল বলেই মনে হয়েছে।
আজও যদি সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে হয়তো এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলতে পারে টাইগাররা।
এআরবি/আইএন