খেলাধুলা

ব্যাটারদের এ কেমন অ্যাপ্রোচ!

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিধ্বংসী জয়! ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে সেটা আবার ২০৯ বল হাতে রেখে জয়। এমন ম্যাচের পর আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ থাকার কথা যে কোনো দলের। বাংলাদেশ দলে কি সেই আত্মবিশ্বাস ছিলো?

দ্বিতীয় ম্যাচে বোলাররা শুরুটা ভালো করতে না পারলেও শেষটা ভালোই করেছিল! কিন্তু ব্যাটাররা কি করলেন? ম্যাচ তো হারলেনই, তবে যে ধরণের অ্যাপ্রোচে ব্যাটিং করলেন সেটা ছিল বড্ড দৃষ্টিকটু।

আগের ম্যাচে নাহিদ রানার বিপক্ষে চরমভাবে ভোগা পাকিস্তানি ব্যাটাররা যে শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচের আগে বাংলদেশের বোলারদের ভালোকরে পাঠ করে, প্রস্তুতিটা ভালোই নিয়েছেন, সেটা দেখা গেলো ম্যাচের একদম শুরুতে।

তাসকিন-মোস্তাফিজ শুরুটা এত বাজে করলেন যে, ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই নাহিদকে আক্রমণে আনতে হলো মেহেদী হাসান মিরাজকে। তবে নাহিদের বিপক্ষেও এদিন সমানতালে ব্যাট চালিয়েছেন পাকিস্তানের ওপেনাররা, বিশেষ করে সা'দ মাজাকাত।

বিধ্বংসী শুরুতে ১৩তম ওভারেই দলটির রান ১০০ পার হয়ে যায়। এরপর ১৯ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট তুলে বাংলাদেশ প্রথম দফায় খেলায় ফেরে। তবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা ১০৯ রানের জুটি গড়ে আবার পাকিস্তানের দিকে খেলা টেনে নেন।

এরপর আবার বাংলাদেশের বোলারদের পালা, ৪৩ রানে শেষ ৭ উইকেট তুলে পাকিস্তানকে ২৭৪ রানেই আটকে রাখেন তারা। অথচ এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০০ তো হবেই, সেটা সাড়ে তিনশও হতে পারে। সেই দলই ৫০ ওভার পুরো খেলতে পারেনি।

বোলাররা শেষটা যতটা দুর্দান্ত করলেন রান তাড়ায় ব্যাটাররা শুরুটা করলেন ততটাই বাজে! ২৭৪ রান তাড়ায় ৪.৩ ওভারেই ১৫ রানে নেই ৩ উইকেট। এর কিছুক্ষণ পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকলো অনেকক্ষণ। বৃষ্টি থামার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ফের খেলা শুরু হয়। ততক্ষণে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৩ রান। ফলে ২৫.৩ ওভারে ২১৬ রান করতে হতো স্বাগতিকদের।

নতুন লক্ষ্য তাড়ায় লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে শুরুটা ভালোই হয়। নবম ওভারে দুজনেই হাঁকান একটি করে বাউন্ডারি। দশম ওভারে হারিস রউফকে মারেন একটি করে চার ও ছক্কা। ত্রয়োদশ ওভারে আরেকটি ছক্কা মারার পরের বলে সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন লিটন। তার আগে করেন ৩৩ বলে ৪১ রান।

লিটন যখন আউট হন তখন ১৯.৩ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৮০ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই সময়ে এই রান তাড়া খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সেটা কঠিন তো বটেই, অসম্ভব করে ছাড়লেন আফিফ হোসেন, তাওহীদ হৃদয়রা।

লিটন আউট হওয়ার ১২ বল পর প্রথম বাউন্ডারি আসে। সেটাও এজড হয়ে! পরের ওভারে আরেকটি চার আসে সেটাও উইকেটের পিছন দিয়ে। আফিফ যখন উইকেটে আসেন ওভার প্রতি রান দরকার ছিল ৯ এর কাছাকাছি। সেখান থেকে ১৫ বলে ১৪ রান করে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি! দেড় বছর পর ওয়ানডেতে তাকে ফেরানো হয়েছে এই সিরিজ দিয়ে।

প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং করার প্রয়োজন হয়নি! পরের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েও দলকে জেতানোর নুন্যতম তাড়না তার মধ্যে দেখা গেলো না! ১৫ বল খেলে একটিও বড় শট খেলার চেষ্টা করেননি এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। দুইটা চার মেরেছেন ঠিকই কিন্তু কোনোটাই কনভিন্সড শট ছিলো না। শারীরি ভাষাতেও ছিল না ইতিবাচক কিছু!

আর তাওহীদ হৃদয় ঠিক কী করতে চাইছিলেন সেটাও বোঝা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল! লিটন উইকেটে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগত ১১তম বলে দ্বিতীয় চার হাঁকানো হৃদয় পরের ১৭ বলে আর কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি! শুধু পারেননি বললে ভুল হবে শেষদিকে সেই চেষ্টাটাও খুব বেশি লক্ষ্য করা যায়নি তার মধ্যে! অথচ বৃষ্টির পর লিটন যে শুরুটা এনে দিয়েছিলেন আফিফ আর হৃদয় অন্তত চেষ্টাটা করতে পারতেন। আধুনিক ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি থেকেই ম্যাচ জিততে হয় বড় দল হতে গেলে!

শুক্রবার ম্যাচটি জিততে পারলে র‍্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে উঠে যেতো বাংলাদেশ, সিরিজ তো জেতা হতোই। সেটা হলো না, অন্যতম কারণ ব্যাটারদের অতি নেতিবাচক অ্যাপ্রোচ। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়, এসব পরিস্থিতিতে পড়লে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আদৌ থাকে কিনা সেটাই সন্দেহ! আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে এসব জায়গা থেকে বের হতে হবে, না হলে আরও বাজে সময় অপেক্ষা করছে টাইগারদের সামনে।

এসকেডি/আইএইচএস