দেশজুড়ে

দুদিনের বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে চা বাগান-বোরো ফসলে

মৌলভীবাজারে গত দু’দিনের বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে ৯২টি চা বাগান, বোরোধানের ক্ষেতসহ প্রকৃতিতে। বিশেষ করে চা বাগানের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল এই সময়ের বৃষ্টি।

বৃষ্টির কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চা-গাছে নতুন কুঁড়ি গজাবে বলে জানিয়েছেন চা উৎপাদনের সংশ্লিষ্টরা।

এ দিকে চা গাছের পাশাপাশি বৃষ্টিতে জেলার বোরো ধান ক্ষেতে পানির অভাব কিছুটা দূর হয়েছে। বৃষ্টির পানি ক্ষেতে আটকে রাখার জন্য কৃষকেরা জমির চারিপাশের নালা বন্ধ করে রেখেছেন।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ও শনিবারে এই অঞ্চলে ৪৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী দুই দিন আরও বৃষ্টি হতে পারে।

বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেক চা গাছ মরে গেছে। এই সময়ে বৃষ্টি না হলে আরও অনেক চা গাছ মারা যেতো। বৃষ্টি হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে নতুন পাতা গজাতে শুরু করবে।

এ দিকে জেলার বোরো চাষিরা জানান, জেলায় বোরো চাষে পানির তীব্র সংকট ছিল। পানি সংকট থাকায় ধান গাছে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় পানির সংকট দূর হবে। একই সঙ্গে ধানের রোগবালাই দূর হবে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, শুক্রবার ও শনিবারে ৪৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ের তুলনায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুই দিন আবহাওয়া একই থাকতে পারে একই সঙ্গে বৃষ্টিও হতে পারে।

শমশেরনগর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির অভাবে বছরে ৩ থেকে ৪ মাস চা উৎপাদন করা যায় না। গত দুদিন মৌলভীবাজারে যে পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে এতে চা গাছের অনেক উপকার হবে। গাছ থেকে নতুন কুঁড়ি বের হবে এখন। আশা করি আগাম বৃষ্টিতে চা উৎপাদন ভালো হবে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, এই সময়ে বৃষ্টির খুবই প্রয়োজন ছিল। গত দুদিন যে পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে এতে বোরোধানের অনেক উপকার হয়েছে। পানির সংকট কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। এছাড়া যেসব মৌসুমি ফলের মুকুল বের হয়েছে এগুলোসহ বিভিন্ন সবজির জন্য অনেক ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরোধানের ফলন অনেক ভালো হবে এ জেলায়।

এম ইসলাম/এনএইচআর/এমএস