ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ সামরিক অভিযানের অবসান ঘটাতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি না হওয়ার প্রধান কারণ ইরানের প্রস্তাবিত শর্তগুলো ট্রাম্পের কাছে ‘যথেষ্ট ভালো’ মনে হচ্ছে না। আর এই শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে ইরান সরে না আসার প্রস্তাব।
শনিবার (১৪ মার্চ) এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এখনই তা করতে চাই না কারণ ইরানের শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।’
ট্রাম্প আরও জানান, যে-কোনো যুদ্ধবিরতির শর্ত ‘খুবই শক্ত ও স্পষ্ট’ হতে হবে।ট্রাম্প যদিও নির্দিষ্ট করে তার শর্তগুলো প্রকাশ করেননি, তবে তিনি বলেন, ‘ইরানকে সম্পূর্ণভাবে তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা শুরু করার দুই সপ্তাহ পর মার্কিন মুলুক থেকে এই মন্তব্য এসেছে। এই যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বাজারে চাপ আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের কারণে প্রভাবিত দেশগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
এই প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ, বিশেষ করে তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য। ট্রাম্প জানান, কয়েকটি দেশ এ পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তিনি তাদের নাম প্রকাশ করেননি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যে-সব দেশ এই প্রণালি দিয়ে তেল পায়, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয় করবে।’
আরেক পোস্টে তিনি দাবি করেন, অনেক দেশ এই পথ খোলা রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।
এদিকে সাক্ষাৎকারে যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় মার্কিন নৌবাহিনী কি জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার করাবে কি না, তখন ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চাই না তবে এটা সম্ভব।’
কেএম