দেশের শেয়ারবাজারে ফের দরপতন হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৫ মার্চ) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও কমেছে মূল্যসূচক। তবে এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়। তবে গত সপ্তাহের শেষ চার কার্যদিবস টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকে বাজার। ফলে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরবে এমন প্রত্যাশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু এখন আবার দরপতন হলো।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ওইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে।
এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৬টির। আর ৪৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুনশেয়ারবাজারে পচা শেয়ারের দাপট চলছেইরোজার আগেই বাড়লো সব ফলের দামপেয়ারা-বরই-আনারস- ছফেদা কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪২টির দাম কমেছে এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৫টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫২৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৬৮ কোটি ৩ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৬২ লাখ টাকার। ১৯ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ব্র্যাক ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ইনটেক লিমিটেড, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট এবং একমি পেস্টিসাইড।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫২টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
এমএএস/ইএ