স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল খেলায় রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যকার ফুটবল খেলার সময় উল্লাস করা নিয়ে ফরিদপুরে হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এসময় হোস্টেলের জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুরও করা হয়।
রোববার (১২ জানুয়ারি) দিনগত রাত ২টার দিকে ফরিদপুর শহরতলির চুনাঘাটা এলাকায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির আবাসিক ছাত্র হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত অবস্থায় ৭ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন, প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের মেরিন টেকনোলজি বিভাগের আমিরুল ইসলাম (১৮), নিরব হোসেন (১৯) ও জুনায়েদ হোসেন (১৯)। এছাড়া একই শ্রেণির হাসিন, সজিব, খতিবুল ইসলাম ও শীপ বিল্ডিং বিভাগের তাহসান নামে আরও চারজন আহত হন।
আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেরিন টেকনোলজির বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী পিয়াস, আদনান, কাউছার, নাঈম, বিল্লাল ও ইমনসহ ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালান। এছাড়া ক্যাম্পাসে র্যাগিং প্রথা ও মাদকসেবন বন্ধ করায় ক্ষোভে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত শিক্ষার্থীরা। এমনকি তাদের বাথরুমে আটকে নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেন তারা।
শীপ টেকনোলজি বিভাগের সাকিব আলী খান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তারা নিয়মিত আমাদের সঙ্গে ঝামেলা বাধিয়ে আসছে। আমরা ক্যাম্পাসে র্যাগিং বন্ধ করায় ও মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাদের বিভিন্ন সময় টর্চারও করে আসছে। স্যারদের জানালে তারা আরও হুমকি-ধামকি দেয়। এমনকি স্যাররাও কোনো পদক্ষেপ নেননি।
তিনি আরও বলেন, রোববার দিনগত রাতে রুমে বসে রিয়ালমাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যেকার খেলা দেখছিলাম। এসময় গোল করায় কয়েকজন জোরে জোরে উল্লাস করে। এই সামান্য ঘটনা নিয়ে বড় ভাইরা লাঠিসোঁটা, লোহা ও স্টিলের পাইপ নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। রুমে দরজা ভেঙে ভেঙে আমাদের প্রত্যেককে তারা নির্মমভাবে পিটিয়েছে, কয়েকজনের মাথা ফেটে রক্ত বের হলেও হামলা বন্ধ করেনি। আমাদের প্রতিটি রুমের জানালা, দরজা, খাট ভেঙে ফেলেছে। এমনকি টাকা পয়সাও নিয়ে গেছে।
এদিকে অভিযুক্ত পক্ষের শিক্ষার্থী পিয়াস বলেন, হামলা নয় দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। কোনো ভাঙচুর করা হয়নি। এ ঘটনায় আমাদের দুজনকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।
প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, যতটুকু জেনেছি এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী বা প্রতিষ্ঠানের কেউ থানায় এখনও অভিযোগ করেনি।
এন কে বি নয়ন/এমএন/এমএস