চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রায় তিন বছর ধরে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের ভয়াবহ সংকট চলছে। সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে টিকা নেই। শুধু তাই নয়, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে উপজেলার প্রায় সব বেসরকারি ফার্মেসিতেও মিলছে না জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন। ফলে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুর কামড়ে আহত রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে।
তিন বছর ধরে চলমান জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সংকট শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়, বরং এটি মতলব উত্তরের হাজারো মানুষের জীবনের ওপর ঝুলে থাকা এক নীরব মৃত্যুঝুঁকি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে এ অবহেলা যে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে সে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে অন্তত পাঁচজন রোগী কুকুরে কামড়ের পর চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু ভ্যাকসিন সংকটের কারণে তারা প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে দূরের শহর কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটছেন, যেখানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী অভিভাবক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমার সন্তানকে কুকুর কামড়িয়েছে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বলা হয় ভ্যাকসিন নেই। পরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে ঘুরেও পাইনি। এখন আমরা চরম আতঙ্কে আছি।
আরেক ভুক্তভোগী মাসুদ বলেন, জলাতঙ্ক যে শতভাগ প্রাণঘাতী, তা সবাই জানে। অথচ তিন বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকা আমাদের জন্য ভয়ংকর পরিস্থিতি।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মোহন মিয়াজী বলেন, সংকট শুধু সরকারি পর্যায়েই নয়, বেসরকারি বাজারেও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক থেকে দুই মাস ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোনো সাপ্লাই নেই। কোম্পানি থেকে সরবরাহ বন্ধ। প্রতিদিন অনেক মানুষ এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, বাস্তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে আমরা কোনো রেবিস ভ্যাকসিন পাইনি। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মতলব উত্তর নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখানে এন্টি-ভেনমের চাহিদা বেশি ছিল। সে কারণে গত অর্থবছরে আমরা এন্টি-ভেনম পেয়েছি। পাশাপাশি কুকুরদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান।
শরীফুল ইসলাম/আরএইচ/জেআইএম