আন্তর্জাতিক

প্রেসিডেন্ট অবস্থায় ট্রাম্পের বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

হোয়াইট হাউজের একটি আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন। দুই মিডিয়া জায়ান্টের মধ্যে একটি বড় চুক্তি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিনিয়োগ করা হয়। এতে করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিকসের বাধ্যতামূলক এই বিবরণী গত বুধবার জমা দেওয়া হয়। এতে মোট ১৯১টি আর্থিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অন্তত ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যের দুটি বিক্রির ঘটনা এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত করপোরেট ও পৌর বন্ডে বিনিয়োগ।

এই বিনিয়োগগুলো করা হয়েছে ১৪ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে।

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের শেয়ার ও বন্ড পোর্টফোলিও স্বাধীনভাবে তৃতীয় পক্ষের আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়।

হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়, সব বিনিয়োগ ডিসক্রেশনারি অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে এবং কম্পিউটারভিত্তিক মডেল পোর্টফোলিওর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা তার পরিবারের কোনো সদস্যেরই বিনিয়োগের ধরন, সময় বা সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখার বা নির্দেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। সব বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি স্বাধীন ব্যবস্থাপকরা নেন।

তবে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারিতে ট্রাম্পের আর্থিক স্বার্থ কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের প্রশ্ন তুলতে পারে।

সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ককুলা সেন্টার ফর অ্যাপ্লায়েড এথিকসের লিডারশিপ এথিকস বিভাগের সিনিয়র পরিচালক অ্যান স্কিট বলেন, এই দুটি কোম্পানিতে প্রেসিডেন্টের বিনিয়োগ নৈতিক উদ্বেগ তৈরি করছে, কারণ প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছেন তিনি এই একীভূতকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি জড়িত থাকবেন। এতে করে চুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রক তদারকিতে তার ভূমিকার কারণে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের সম্ভাবনা তৈরি হয়। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত কেবল জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে।

ট্রাম্পের মেয়াদ শুরুর সময় ট্রাম্প অর্গানাইজেশন একটি নৈতিকতা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, যেখানে বলা হয় প্রেসিডেন্ট তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের ব্যবস্থাপনায় কোনোভাবেই জড়িত থাকবেন না।

জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ের সাবেক প্রধান নৈতিকতা আইনজীবী এবং মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক রিচার্ড পেইন্টার বলেন, নেটফ্লিক্সসহ অন্যান্য করপোরেট বন্ডে ট্রাম্পের বিনিয়োগ সম্ভাব্য কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের আরেকটি ছোট অংশ, যা প্রেসিডেন্টের ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ঘিরে উদ্বেগের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি আরেকটি বিনিয়োগ যা তার সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে, তবে এটি সবচেয়ে গুরুতর বিষয় নয়।

পেইন্টার আরও বলেন, স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আচরণ অভূতপূর্ব। আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের আইন প্রযোজ্য না হলেও, অন্য সব প্রেসিডেন্ট স্বেচ্ছায় এমন সংঘাত এড়িয়ে চলেছেন।

সূত্র:সিএনএন

এমএসএম