দেশজুড়ে

পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন

দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রের তিন ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে ২০ অক্টোবর সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়। সাতদিন পর ২৬ অক্টোবর পুনরায় উৎপাদনে ফেরে।

জানা যায়, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ দিন পর উৎপাদনে আসে ১৪ জানুয়ারি।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সকালে ১ নম্বর ইউনিটের বয়লারের টিউব পুরোপুরি ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ। প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা হলে এটির মেরামত কাজ শুরু হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার কবে উৎপাদনে ফিরবে সেটি এ মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এবার উৎপাদনে ফিরতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরোনো। প্রতি পাঁচ বছর পর পর মেরামত করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে কাজ করছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে আবার তৃতীয় ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তারপরও আশা করছি, আগামী মার্চে উৎপাদনে ফিরতে পারে। দ্বিতীয় ইউনিটির যন্ত্রাংশ আনতে দাম বাড়ার অজুহাতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করছে।

এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/জেআইএম