লাইফস্টাইল

লিপস্টিক লাগিয়ে দই খেলে কী হয়

 

লিপস্টিক মানেই ঠোঁটে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। অফিস মিটিং হোক বা পার্টি-ঠোঁটে লিপস্টিক না লাগালে অনেকেরই সাজ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বিশেষ করে ম্যাট ও লং-লাস্টিং লিপস্টিক এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। তবে সমস্যা হলো, এই ধরনের লিপস্টিক খেতে খেতেই সহজে ওঠে না। ফলে অজান্তেই খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকে যেতে পারে প্রসাধনীর ক্ষতিকর উপাদান।

দই তো বাঙালির খাদ্যতালিকার একেবারে অবিচ্ছেদ্য অংশ-ভাতের সঙ্গে, ফলের সঙ্গে কিংবা একাই। তাহলে লিপস্টিক পরে দই খাওয়া কি আদৌ নিরাপদ?

লিপস্টিক আর দই একসঙ্গে গেলে যা ঘটেলিপস্টিকের মধ্যে থাকে নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান, কৃত্রিম রং ও প্রিজারভেটিভ। দই খাওয়ার সময় ঠোঁটের সংস্পর্শ এড়ানো কঠিন। তখন ঠোঁটে থাকা লিপস্টিকের সামান্য অংশ দইয়ের সঙ্গে মিশে মুখের ভেতরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে লং-লাস্টিং বা ম্যাট লিপস্টিক সহজে ওঠে না, তাই দইয়ের আর্দ্রতার সঙ্গে মিশে এর রাসায়নিক উপাদান শরীরে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

এতে শুধু শরীরেই নয়, দইয়ের উপকারিতাতেও প্রভাব পড়ে। দইয়ে থাকা উপকারী প্রোবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, যার ফলে বদহজম বা পেটের অস্বস্তি দেখা দেয়।

স্বাস্থ্যের ঝুঁকি মূলত লিপস্টিকের ভেতরের ক্ষতিকর উপাদান থেকে আসে। অনেক লিপস্টিকে সীসা, প্যারাবেন ও কৃত্রিম রং থাকে, যা নিয়মিত খাবারের সঙ্গে শরীরে গেলে হজমের সমস্যা বা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। একদিনে বড় ক্ষতি না হলেও, নিয়মিত হলে ঝুঁকি বাড়ে।

সৌন্দর্যের দিক থেকে যে সমস্যা হতে পারেদইয়ের প্রাকৃতিক অ্যাসিডিক উপাদান লিপস্টিকের ফিনিশ নষ্ট করে দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ লিপস্টিক পরে থাকলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। ঠোঁটে জমতে থাকে মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়া। দিনের পর দিন লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁট কালচে হয়ে যাওয়া ও পিগমেন্টেশনের সমস্যাও বাড়ে।

চাইলে ঘরোয়া যত্ন হিসেবে ঠোঁটে টকদই লাগাতে পারেন। দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ঠোঁটকে হালকা এক্সফোলিয়েট করে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

নিরাপদ থাকবেন যেভাবেনিরাপদ থাকতে হলে কিছু ছোট অভ্যাস গড়ে তোলাই যথেষ্ট। দই বা যেকোনো খাবার খাওয়ার আগে টিস্যু দিয়ে ঠোঁটের লিপস্টিক হালকা করে মুছে নেওয়া ভালো। এতে লিপস্টিকের রাসায়নিক উপাদান খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢোকার ঝুঁকি কমে। খাবারের সময় চাইলে ভারী লিপস্টিকের পরিবর্তে হালকা লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন, যা ঠোঁটকে আর্দ্র রাখবে এবং ক্ষতির আশঙ্কাও কমাবে।

দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য হার্বাল বা লিড-ফ্রি লিপস্টিক বেছে নেওয়া বেশি নিরাপদ। আর দই খাওয়া শেষ হলে ঠোঁট ভালোভাবে পরিষ্কার করে আবার লিপস্টিক লাগালে সৌন্দর্য যেমন বজায় থাকবে, তেমনই স্বাস্থ্যের দিক থেকেও থাকবেন নিশ্চিন্ত।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন: ২১ দিনের ড্রিংক চ্যালেঞ্জে নেহা ধুপিয়ার চমকপ্রদ পরিবর্তন দুপুরে খাবারের পর চা পান করা কতটা স্বাস্থ্যকর 

এসএকেওয়াই/