চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মরদেহ (২০ জানুয়ারি) মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের অলিপুর ভুঁইয়া পাড়া ইদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় র্যাব, পুলিশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে চট্টগ্রামে প্রথম জানাজা শেষে নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের লোকজন মরদেহ গ্রহণ কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। মোতালেব হোসেন কুমিল্লার সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের প্রয়াত আবদুল খালেক ভুইয়ার পুত্র। ৮ ভাই ৩ বোনের মধ্যে নিহত মোতালেব সবার ছোট।
তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে সাকিব অনার্স প্রথম বর্ষ, মেয়ে শামীমা জান্নাত এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট মেয়ে মুনতাহা আক্তার ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি বিজিবিতে যোগাদান করেন ১৯৯৩ সালে। গত দুই বছর আগে তিনি র্যাবে পোস্টিং নেন।
মোতালেবের মৃত্যুর খবর সোমবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে চট্টগ্রাম থেকে গ্রামের বাড়িতে জানানো হলে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, গত শুক্রবার আমার ভাই বাড়িতে এসেছিল। চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় তার বড় মেয়ে বারবার বলছিল আব্বু আজ যেয়ো না। মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে মোতালেব বলেছিল, সরকারি কাজ, যেতেই হবে। মেয়েটি কান্না বুকে জমা রেখেই বাবাকে বিদায় দেয়।
তার বড় ভাই জাকির হোসেন ভূইয়া বলেন, মোতালেব পরিবারে ছোট হওয়ায় সে ছিল খুব আদরের। ছোট বেলা থেকেই ছিল বেশ সাহসী। নিজের জীবন দিয়ে আজ তা প্রমাণ করে গেল।
র্যাব ১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, দায়িত্বপালনকালে সন্ত্রাসীদের হাতে মোতালেবের এ মৃত্যু সত্যই দু:খজনক। দেশের জন্য এমন মৃত্যু অনুসরণীয় হয়ে থাকেবে। আমরা সব সময় এ পরিবারের পাশে থাকবো।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এতে র্যাবের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন
জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ