ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ভোটের আগে ও পরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সহিংসতার সুযোগ দেওয়া হবে না।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নির্বাচনি আচরণবিধি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা ও প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ও গণভোট উপলক্ষে সকাল ১০টায় মতবিনিময় সভা এবং বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠান হয়।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ভোটের আগে ও পরে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে, যাতে ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই নিরাপদে ভোট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য পুলিশের সব স্তরের সদস্যরা মাঠে থাকবে। কোথাও যদি পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়া যায় বা কোনো সদস্য দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন, তাহলে প্রার্থীরা ও সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও নির্বাচনী সহিংসতা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ডিজিটাল প্রচারণা ও গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া প্রার্থীরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তারা বলেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটাররা নানা কারণে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই এবারের নির্বাচন যেন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে তারা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, প্রার্থীদের উত্থাপিত সব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে সবাইকে কঠোরভাবে অনুরোধ জানান।
প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। অনুষ্ঠান শেষে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করা হয়।
এমডিএএ/এসএনআর