ভাষান্তর: মধুসূদন মিহির চক্রবর্তী
আধখালি চায়ের কাপ আর পোড়া সিগারেটের শেষাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঠান্ডা ও ঠাসা একটি শোয়ার ঘর। পোকায় কাটা ড্রেসিংগাউন পরিহিত এক লোক একটি নড়বড়ে টেবিলে বসে নিজের চারপাশের ধুলিধূসর কাগজের স্তূপের মধ্যে টাইপরাইটারের জন্য জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছে। কাগজপত্রগুলো তিনি ফেলতে অপারগ কারণ বর্জ্য কাগজের ঝুড়িটি ইতোমধ্যেই উপচে পড়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরহীন চিঠি এবং অপ্রয়োজনীয় বিলগুলোর মধ্যে কোথাও সম্ভবত দুই গিনি সমপরিমাণ অর্থের একটি চেকও রয়েছে, যা তিনি প্রায় নিশ্চিত ভাবেই ব্যাংকে জমা দিতে ভুলে গেছেন। ঠিকানাসহ চিঠিরাও পড়ে আছে, ওগুলোর ঠিকানা বইতে টুকে রাখা দরকার। তিনি সেই ঠিকানা বইটি হারিয়ে ফেলেছেন এবং সেটি খুঁজে পাওয়ার চিন্তা কিংবা আসলে কোনো কিছু খোঁজার চিন্তা তাকে তীব্র আত্মহননের প্ররোচনায় অসুস্থ করে তুলেছে।
তিনি ৩৫ বছর বয়সী একজন মানুষ হলেও তাকে দেখতে ৫০ বছর বয়সী বলে ভ্রম হয়। তার মাথায় টাক, ভেরিকোজ ভেইন রয়েছে এবং চশমা পরেন। অথবা বলা যায়, তার একমাত্র চশমা জোড়া স্থায়ীভাবে হারিয়ে না যাওয়া অবধি সেগুলোই ব্যবহার করতে থাকেন। যদি সবকিছু স্বাভাবিক থাকে তাহলে ধরে নেওয়া যায় তিনি অপুষ্টিতে ভুগছেন কিন্তু সম্প্রতি তিনি যদি কোনো একটি সৌভাগ্য লটারি জিতে থাকেন তবে তিনি হ্যাংওভারে ভুগছেন। এই মুহূর্তে সকাল সাড়ে এগারোটা বাজে। নৈমিত্তিক সময়সূচি অনুযায়ী আরও দুই ঘণ্টা আগে তার কাজ শুরু করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি যদি শুরু করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টাও করতেন তবুও ক্রমাগত টেলিফোনের বেল বেজে চলা, শিশুদের হল্লা, রাস্তায় বৈদ্যুতিক ড্রিল মেশিনের বিকট শব্দ আর সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করা পাওনাদারদের ভারী বুটের শব্দে হতাশ হয়ে পড়তেন। অতি সাম্প্রতিক বাধাটি ছিল দ্বিতীয় ডাকের আগমন- দুটি সার্কুলার এবং লাল রঙে মুদ্রিত একটি আয়কর চাহিদাপত্র।
বলাই বাহুল্য এই ব্যক্তি একজন লেখক। তিনি একজন কবি, একজন ঔপন্যাসিক বা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার বা রেডিও অনুষ্ঠানের লেখকও হতে পারেন। সব সাহিত্যিকের জন্য একই রকম তবে আমরা ধরে নিচ্ছি যে তিনি একজন বই পর্যালোচনাকারী। কাগজপত্রের স্তূপের মধ্যে অর্ধেক লুকানো পাঁচ খণ্ড বইয়ের একটি বড় পার্সেল দেখা যাচ্ছে, যেটার গায়ে সম্পাদক একটি টীকাও লিখে পাঠিয়েছেন। টীকাটিতে উপদেশের ঢংয়ে লেখা ‘মিলেমিশে সদ্ভাব নিয়ে চলতে হবে’।
বইগুলো চারদিন আগে এসেছে কিন্তু প্রথম ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সমালোচক নৈতিক অসাড়তার কবলে পড়ে পার্সেলটি খুলে দেখেননি। গতকাল একটি অটল মুহূর্তে তিনি মোড়কের দড়িটি ছিঁড়ে ফেলেন। পার্সেলটি খুলেই তিনি পাঁচটি বই দেখতে পান, যার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন অ্যাট দ্য ক্রস রোড, সায়েন্টিফিক ডেইরি ফার্মিং, আ শর্ট হিস্ট্রি অব ইওরোপিয়ান ডেমোক্রেসি (এটি ৬৮০ পৃষ্ঠার বই এবং ওজন চার পাউন্ড), ট্রাইবাল কস্টিউম ইন পর্তুগিজ ইস্ট আফ্রিকা এবং রয়েছে একটি উপন্যাস ইটস নাইসার লাইং ডাউন। শেষোক্ত বইটি সম্ভবত ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধরা যাক ৮০০ শব্দের মধ্যে লেখা তার সমালোচনাটি আগামীকাল মধ্যাহ্নের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে।
এগুলোর মধ্যে তিনটি বই এমন বিষয় নিয়ে লেখা; যেসব বিষয়ে তিনি খুবই অজ্ঞ। এর ফলে তাকে অন্তত পঞ্চাশ পৃষ্ঠা পড়ে দেখতে হবে, যাতে তিনি কোনো সাংঘাতিক ভুল না করে বসেন। তাহলেই শুধু তিনি কেবল লেখকের কাছেই নয় (অবশ্যই বই সমালোচকের অভ্যাস সম্পর্কে সমস্ত কিছু জানেন), এমনকি সাধারণ পাঠকের কাছেও তার জারিজুরি ফাঁস হওয়া থেকে বাঁচবেন। বিকেল চারটার মধ্যে তিনি মোড়ক থেকে বইগুলো বের করে ফেলবেন কিন্তু সেগুলো খুলতে স্নায়বিক অক্ষমতায় ভুগবেন। সেগুলো পড়ে দেখার সম্ভাবনা, এমনকি কাগজের ঘ্রাণও তাকে প্রভাবিত করে ঠিক যেন রেড়ির তেলের গন্ধযুক্ত ঠান্ডা চালের গুড়োর পুডিং খাওয়ার কথা স্মরণে আসার মতো। তার লেখাটি সময়মতো অফিসে পৌঁছাবে কি না, বিষয়টি যথেষ্ট কৌতূহল জাগানিয়া। কিন্তু ঘটনা যাই ঘটুক, লেখাটি সব সময় ঠিক সময়েই পৌঁছায়।
রাত নয়টার দিকে তার মন তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার হয়ে উঠবে এবং মাঝরাতের পরের দিকে তিনি এমন একটি ঘরে বসে থাকবেন, যা ক্রমশ শীতল হতে থাকবে। তখন সিগারেটের ধোঁয়া ঘন এবং ঘনতর হতে থাকবে, দক্ষতার সাথে তিনি একের পর এক বই থেকে বইয়ে লাফিয়ে বেড়াবেন এবং একটি চূড়ান্ত মন্তব্যের সাথে বইটি রেখে দিয়ে বলবেন, ‘হা ঈশ্বর, কীসব নাড়িভুঁড়ি!’ সকাল বেলায় ঘড়ির কাঁটার ভীতিকর আঙুলটি তাকে ভয় না দেখানো পর্যন্ত কর্কশ ও অমুণ্ডিত চেহারা নিয়ে ঝাপসা চোখে একটি সাদা কাগজের দিকে এক বা দুই ঘণ্টা তাকিয়ে থাকবেন। তারপর হঠাৎ করেই তিনি কাজে লেগে পড়বেন। ‘বইটি কারোরই হেলায় হারানো ঠিক নয়’, ‘প্রতিটি পৃষ্ঠাজুড়ে রয়েছে কিছু অবিস্মরণীয় বিষয়’, ‘বিশেষ মানসম্পন্ন অধ্যায়সমূহ’ ইত্যাদি ইত্যাদি সমস্ত একঘেয়ে পুরোনো বাক্যাংশ চুম্বকীয় আবেশে ছুটে চলতে থাকবে আর পর্যালোচনাটি একদম মাপা দৈর্ঘে গিয়ে শেষ হবে। প্রায় তিন মিনিট বাকি আছে এমন সময়ে ডাকযোগে আরও একটি বেখাপ্পা, অরুচিকর বইয়ের বাণ্ডিল এসে পৌঁছাবে। আর এরকম চলতেই থাকবে। তবুও কত আশা নিয়ে এই খেটে খাওয়া, পেশী নিংড়ানো প্রাণীটি মাত্র কয়েক বছর আগে তার কর্মজীবন শুরু করেছিল।
আমার কথাকে অতিশয়োক্তি বলে মনে হচ্ছে? বছরে ধরুন ন্যূনতম একশটি বই পর্যালোচনা করেন এমন নিয়মিত সমালোচককে আমি জিজ্ঞাসা করে দেখেছি। যেরকম অভ্যাস এবং চরিত্র আমি বর্ণনা করেছি; সেটি তিনি কি সততার সাথে অস্বীকার করতে পারবেন। যাই হোক না কেন, প্রত্যেক লেখকই বরং সেই ধরনের ব্যক্তি, তবুও বইগুলোর দীর্ঘায়িত, বাছবিচারহীন সমালোচনা করা অত্যন্ত প্রশংসাহীন, বিরক্তিকর ও ক্লান্তিকর একটি কাজ।
আরও পড়ুনওঙ্কার: একটি দেশের জন্মকথা বইয়ের ঘ্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে স্ক্রিনের ফাঁদে
এটি শুধু ছাইভস্মের প্রশংসায় নিয়োজিত হওয়া নয়- যদিও আমি এক মুহূর্তে দেখাতে পারবো যে বিষয়টি আসলে তেমনই বটে। কারণ যেসব বই সম্পর্কে একজনের কোনো স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতিই নেই, তবুও সে ক্রমাগত সেই বইগুলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া উদগীরণ করে চলে। সমালোচক হয়রান হলেও পেশাগতভাবে বইয়ের প্রতি আগ্রহী থাকেন এবং ফি বছর প্রকাশিত সহস্র বইয়ের মধ্যে সাকূল্যে পঞ্চাশটি বা শখানেক বই সম্পর্কে তিনি লিখে আনন্দ পেতে পারেন। যদি তিনি একজন প্রথম সারির পেশাদার সমালোচক হন তাহলে তিনি সেই বইগুলোর মধ্যে দশ বা বিশটি বইয়ের বিষয়বস্তু মনে রাখতে পারেন, তবে দুটি বা তিনটির সম্ভাবনাই বেশি। প্রশংসা বা নিন্দায় তিনি যতই ন্যায়নিষ্ঠ হন না কেন, তার অবশিষ্ট কাজ মোটা দাগে ছলনার নামান্তর। তিনি তার অমর আত্মাকে নর্দমায় ঢেলে দিচ্ছেন, একেকবারে এক পাঁইট পরিমাণে।
বেশিরভাগ পর্যালোচনাই নির্দিষ্ট বইটির একটি অপর্যাপ্ত বা বিভ্রান্তিকর বিবরণ দেয়। যুদ্ধের পর থেকে প্রকাশকরা সাহিত্য সম্পাদকদের উদ্দীপ্ত করতে এবং তাদের প্রকাশিত প্রতিটি বইয়ের প্রশংসাসূচক বন্দনা করাতে আগের চেয়ে কম সক্ষম বলে মনে হয়। কিন্তু অন্যদিকে স্থানাভাব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অসুবিধার কারণে পর্যালোচনার মান ক্রমশ নিম্নগামী হয়ে পড়েছে। ফলাফল দেখে লোকেরা কখনো কখনো পরামর্শ দেয় যে, ভাড়াটে সাহিত্যিকের হাতে বইয়ের সমালোচনা লেখানোর মধ্যেই সমাধান আছে। বিশেষায়িত বিষয়ের বইগুলো বিশেষজ্ঞদের দ্বারাই সমালোচনা করানো উচিত এবং অন্যদিকে বিশেষত উপন্যাসের পর্যালোচনার একটি বড় অংশ অপেশাদারদের দ্বারা প্রচুর পরিমাণে করা যেতে পারে। যদি শুধু আবেগতাড়িত অপছন্দ না থেকে থাকে তাহলে প্রায় প্রতিটি বই-ই কিছুসংখ্যক পাঠকের অন্তরে আবেগপ্রবণ অনুভূতি জাগাতে সক্ষম। তাদের অনুভূতিসমূহ কোনো একঘেয়েমিতে ভোগা পেশাদারের চেয়ে অবশ্যই বেশি মূল্যবান হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রত্যেক সম্পাদক ভালো করেই জানেন, এ ধরনের রচনা সংগ্রহ করা খুব কঠিন। অনুশীলনের ক্ষেত্রে সম্পাদক সর্বদা নিজেকে তার ভাড়াটে সাহিত্যিকদের দলে ভিড়তেই দেখেন। অর্থাৎ ‘নিয়মনিষ্ঠদের দলে’- যেমন করে তিনি তাদের সম্বোধন করে থাকেন।
যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি বই পর্যালোচনার যোগ্য বলে ধরে নেওয়া হবে, ততক্ষণ এর কোনোটিই প্রতিকারযোগ্য নয়। তাদের অধিকাংশের স্থূলভাবে অতিরিক্ত প্রশংসা না করে প্রচুর পরিমাণে বই উল্লেখ করা প্রায় অসম্ভব। বেশিরভাগই বই কতখানি ত্রুটিপূর্ণ সেই বিষয়টি বইয়ের সাথে পেশাগত সম্পর্ক না হওয়া পর্যন্ত কেউ আবিষ্কার করতে পারে না। দশটির মধ্যে নয়টিরও বেশি ক্ষেত্রে একমাত্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে সত্য সমালোচনা হওয়া উচিত ‘এই বইটি মূল্যহীন’। তেমনিভাবে সমালোচকের নিজের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সত্যভাষণ হবে সম্ভবত ‘এই বইটির বিষয়ে আমি একদম আগ্রহী নই, যদি না আমাকে অর্থ প্রদান করা হয় তাহলে আমি এই বই সম্পর্কে লিখব না।’ কিন্তু জনসাধারণ এ ধরনের জিনিস পড়ার জন্য অর্থ প্রদান করবে না। কেনইবা তারা দেবে? যে বইগুলো তাদের পড়তে বলা হয়; সেগুলোর জন্য তারা এক ধরনের অগ্রদূতের সাহায্য চায় এবং তারা বইগুলো সম্পর্কে এক ধরনের মূল্যায়ন চায়। কিন্তু উপকারিতা উল্লেখ করার সাথে সাথেই বইয়ের মানের পতন হয়। কারণ যদি কেউ বলে– এবং প্রায় প্রতিটি সমালোচক সপ্তাহে অন্তত একবার এ ধরনের কথা বলেনই যে ‘কিং লিয়ার’ একটি ভালো নাটক এবং ‘দ্য ফোর জাস্ট মেন’ একটি ভালো থ্রিলার, তাহলে ‘ভালো’ শব্দের অর্থ কী দাঁড়ায়?
আমার কাছে সব সময় মনে হয়েছে, বেশিরভাগ গ্রন্থকে বর্জন করতে শেখা এবং খুব দীর্ঘ সমালোচনা থেকে বিরত থাকাই শুধু সর্বোত্তম অনুশীলন হওয়া উচিত। তবে যদি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলে মনে হয়, তাহলে নিদেনপক্ষে ১ হাজার শব্দের একটি পর্যালোচনা করা যেতেই পারে। আসন্ন বইয়ের একটি বা দুটি লাইনের সংক্ষিপ্ত টীকা প্রয়োজন হতে পারে, তবে প্রায় ৬০০ শব্দের স্বাভাবিক মাঝারি-দৈর্ঘের পর্যালোচনা মূল্যহীন হতে বাধ্য। এমনকি যদি পর্যালোচক সত্যিকার অর্থে এটি লিখতেও চান। সাধারণত তিনি এটি লিখতে চান না। এ ছাড়া সপ্তাহের শুরু ও শেষে টুকিটাকি রচনা করা তাকে শিগগিরই একটি ড্রেসিংগাউন পরিহিত সেই পরিচিত চিত্রে পরিণত করে, যা আমি এই নিবন্ধের শুরুতে বর্ণনা করেছি। যাই হোক, এই পৃথিবীতে প্রত্যেকেরই কেউ না কেউ এমন একজন থাকে, যাকে সে হেয় করে আনন্দ পায়। উভয় ধরনের পেশার অভিজ্ঞতা থেকে আমাকে বলতেই হবে যে চলচ্চিত্র সমালোচকের চেয়ে গ্রন্থ সমালোচক অনেক ভালো। প্রথমোক্ত জন কখনোই নিজের কাজটি বাড়িতে বসে করতে পারেন না, তাকে সকাল এগারোটায় সিনেমার বাণিজ্যিক প্রদর্শনীতে যোগ দিতে হয় এবং এক বা দুটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম ছাড়া এক গ্লাস নিকৃষ্ট শ্বেতবর্ণ মদের জন্য তার নিজের সম্মান বিক্রি করার সম্ভাবনাও থেকে যায়।
(১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে লন্ডনের ট্রিবিউন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।)
মন্তব্যঅরওয়েলের নিবন্ধটি দ্য নিউ রিপাবলিক পত্রিকায়, ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট অপরিবর্তিতভাবে পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল। এটি দ্য নিউ ইয়র্কারের কার্টুনিস্ট জেমস থার্বারের আঁকা কার্টুন সহযোগে চিত্রিত হয়। সারি দেওয়া বইয়ের স্তূপাকৃতি একটি কক্ষের দৃশ্য চিত্রিত করা হয়। সেখানে দুজন নারী একে অপরের মুখোমুখি স্পষ্টতই গভীর কথোপকথনরত; বিরস বদনে একজন লোক তাদের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে বসে আছে। ক্যাপশনে একজন নারী তার সঙ্গীকে বলেছেন: ‘তিনি গত দশ বছরে পড়া একটি শব্দও বিশ্বাস করেন না’। জেমস থার্বার তার অদম্য বুদ্ধিদীপ্ত বলিষ্ঠ গদ্যধারা এবং শৈলীর বিস্তৃত পরিসর, ছোটগল্প, ছবি আঁকা, আধুনিক ভাষ্য, উপকথা, শিশুদের উদ্ভট কল্পনা রচনার মাধ্যমে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান মার্কিন কৌতুকপূর্ণ কাহিনি-রচয়িতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। থার্বারের অনেকগুলো আঁকা ছবি ও গল্প সর্বপ্রথম দ্য নিউ ইয়র্কার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
পর্যালোচনার বিশ বছরের মধ্যে অরওয়েল মাত্র ৭০০টিরও বেশি গ্রন্থ, নাটক এবং চলচ্চিত্র পর্যালোচনা করেছেন। তার ব্যস্ততম বছর ছিল ১৯৪০, যখন তিনি ৬৭টি পর্যালোচনায় ১৩৫টি বই, নাটক এবং চলচ্চিত্র পর্যালোচনা করেছেন। এ ছাড়া দ্য গ্রেট ডিক্টেটরের একটি সংক্ষিপ্ত উল্লেখ, যা তিনি পরবর্তীতে সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করেছেন।
এসইউ