দেশজুড়ে

কার্বনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে মানববন্ধন-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কার্বনমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মানববন্ধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে স্থানীয় সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পর্যটকরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে উপকূলীয় জনপদ রক্ষায় বৈশ্বিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

এ সময় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ উপকূল গড়ে তোলার ওপর তারা গুরুত্ব দেন।

মানববন্ধন শেষে এনএসএস-এর উদ্যোগে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৈকত পরিষ্কার করা হয়। অভিযানে দুই শতাধিক প্রতিনিধি ছাড়াও পর্যটক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা অংশগ্রহণ করেন।

এনএসএস নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও সাংবাদিক খায়রুল বাশার বুলবুল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের কারণে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই উপকূল টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য পরিবেশবান্ধব আচরণ, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

কেয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বায়েজিদ বোস্তামী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো ভবিষ্যৎ আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ তাদের অভিযোজন সক্ষমতা সবচেয়ে কম। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বিকল্প জীবিকা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলী এপি ম্যানেজার বিধুদান বিশ্বাস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শিশু, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এই সংকট মোকাবেলায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ শিক্ষাকে জোরদার করতে হবে। তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/কেএইচকে/জেআইএম