মাংস ছাড়াও যে রান্না হতে পারে ভরপুর, সমৃদ্ধ আর রাজকীয় তার প্রমাণই ফুলকপির কিমা। মরসুমি এই সাধারণ সবজিকে রাঁধুনের যত্নে আর মশলার সঠিক ব্যবহারে রূপ দেওয়া হয়েছে এমন এক পদে, যেখানে স্বাদের গভীরতায় কোনো ঘাটতি নেই। রোস্ট বা কোরমার চেনা আবহ ধরে রেখে তৈরি এই ফুলকপির কিমা শুধু মাংসের বিকল্প নয়, বরং নিজস্ব পরিচয়ে উঠে আসা এক অনন্য প্রধান খাবার, যা স্বাস্থ্য আর স্বাদের নিখুঁত সমন্বয়। রইলো রেসিপি-
প্রথমে একটি আস্ত ফুলকপি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে গ্রেট করে নিতে হবে। আলাদা করে আদা, রসুন ও কাঁচামরিচ মিক্সার গ্রাইন্ডারে একেবারে মিহি করে পিষে রাখুন। এরপর একটি কড়াই বা প্যানে তেল গরম করে তাতে জিরা ফোঁড়ন দিন। এই রান্নায় জিরার ব্যবহার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জিরার সঙ্গে অল্প হিং যোগ করুন। ফুলকপিতে স্বাভাবিকভাবেই সালফারের উপস্থিতি থাকায় রান্নার সময় ভুল হলে স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হতে পারে, হিং সেই সমস্যা কাটিয়ে স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে।
জারের ঘ্রাণ বেরোতে শুরু করলে বা রং হালকা বদলালে কড়াইয়ে আদা-রসুন-মরিচবাটা দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। এরপর গ্রেট করা ফুলকপি যোগ করে নেড়ে মিশিয়ে দিন। স্বাদমতো লবণ দিন। লবণ দিলেই ফুলকপি থেকে ধীরে ধীরে পানি বেরোবে এবং সেই পানিতেই কপি সেদ্ধ হয়ে যাবে। ঝাল পছন্দ হলে কাঁচামরিচ ও মরিচগুঁড়ো দুটোই ব্যবহার করতে পারেন আর ঝাল কম চাইলে যেকোনো একটি বা পরিমাণ কমিয়ে নিন। সব মশলা মেশানোর পর কড়াই ঢেকে কিছুক্ষণ রান্না করুন।
ফুলকপি অল্প সেদ্ধ হয়ে এলে টক স্বাদের জন্য দই যোগ করুন। আবার ঢেকে মাঝারি আঁচে ৫–৭ মিনিট রান্না করুন। শেষে ঢাকনা খুলে ওপর থেকে সামান্য রোস্ট করা কাজু ছড়িয়ে দিন। ব্যস, মাংস ছাড়াই রাজকীয় স্বাদের ফুলকপির কিমা তৈরি। গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ হবে অতুলনীয়।
জেএস/