খেলাধুলা

চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, বিপিএলের ফাইনাল। তবে গ্যালারি দেখে যে কেউ মনে করতে পারে এটা বুঝি রাজশাহীর কোনো ভেন্যু! শেরে বাংলার ২৩ হাজার ধারণ ক্ষমতার গ্যালারিতে এদিন সিংহভাগের সমর্থনই পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

গ্যালারি থেকে এমন অভাবনীয় সমর্থন পেয়েই কিনা জ্বলে উঠলেন রাজশাহীর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম! আগের ১২ ম্যাচে ১ ফিফটি করা এই ওপেনার ফাইনালে করলেন রেকর্ড সেঞ্চুরি। আর তাতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স পেলো বড় সংগ্রহ।

সেটা তাড়ায় পাওয়ার প্লেতেই ৩ উইকেট হারানো চট্টগ্রাম রয়্যালস আর ম্যাচেই ফিরতে পারেনি। শুরু আর শেষ, দুই দিকেই বিনুরা ফার্নান্দোর তোপের মুখে খেই হারিয়েছে চট্টগ্রাম। এতে সহজ জয়ে অভিষেক মৌসুমেই বিপিএলের শিরোপা ঘরে তুললো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুক্রবার বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করা রাজশাহী নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৪ রান করা। জবাবে ১১১ রানে শেষ হয় চট্টগ্রামের ইনিংস।

৬২ বলে ১০০ রান করা রাজশাহীর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের হাতে উঠেছে ম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার। এই সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের মধ্যে বিপিএলে এখন সর্বোচ্চ তিন সেঞ্চুরি মালিক বনে গেছেন তামিম।

রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এটাই প্রথম শিরোপা। তবে রাজশাহীতে এর আগেও একবার বিপিএলের শিরোপা গেছে। ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস একবার বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চট্টগ্রাম। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ৩ বলের মধ্যে ফিরে যান নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের মতো এদিনও শুরুতেই জোড়া উইকেট তুলে রাজশাহীকে চালকের আসনে বসান শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। ষষ্ট ওভারে ১১ রান করা হাসান নেওয়াজকে বিদায় করেন হাসান মুরাদ। শুরুতেই চাপে পড়া চট্টগ্রাম পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ৪১ রান।

এরপর জাহিদুজ্জামান সাগরকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন মিরজা বেগ। তবে দশম ওভারে মিরাজকে একা করে ফিরে যান সাগর। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১১ রান। দলের এমন বিপদে এদিন অধিনায়ক শেখ মেহেদীও দায়িত্ব নিতে পারেননি। দ্বাদশ ওভারে দলকে আরও বিপদে ফেলে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান তিনি। ৭২ রানেই ব্যাটিং লাইন আপের অর্ধেক সদস্যকে হারিয়ে ফেলে চট্টগ্রাম।

১৪তম ওভারে শেষ হয় মিরাজের সংগ্রামী ইনিংস। হাসান মুরাদকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলতে গিয়ে স্টাম্পিং হন তিনি। ফেরার আগে ৩৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ রান করেন তিনি। শেষদিকে লড়াইয়ের আভাস দিলেও উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আসিফ আলী। ১৬ বলে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ডানহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ২.১ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় রাজশাহীর ইনিংস। ৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৮ রানে ৪ উইকেট নেন বিনুরা।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহীকে এদিন দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান। পাওয়ার প্লেতে রাজশাহীর স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৪০ রান। সপ্তম ওভার থেকে আগ্রাসী রুপ ধারণ করেন তামিম। ওই ওভারেই হাঁকান দুই ছক্কা। পরের ওভারে ছক্কা আসে ফারহানের ব্যাট থেকে। ৯ম ওভারে তামিম হাঁকান আরও এক জোড়া ছক্কা।

দশম ওভারে ব্যক্তিগত ২৯ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম ফিফটি পূর্ণ করেন তামিম। এর মধ্যেই ৬টি ছক্কা এসেছে এই বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে। ১০ ওভার শেষে রাজশাহীর রান ছিল ৮২। পরের ওভারে ভাঙে রাজশাহীর ৮৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৩০ বলে ৩০ রান করা ফারহানকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেনে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।

১২তম ওভারে তামিমকে ফেরানো সুযোগ হাতছাড়া করে রাজশাহী। ব্যক্তিগত ৫৪ রানে থাকা তামিমের ক্যাচ ফেলেন মুগ্ধ। আমের জামালের বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন তামিম। তবে হাতে নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি মুগ্ধ। এরপর মুগ্ধর উপর রীতিমতো ক্ষেপে যান জামাল। দৌড়ে এসে তাকে শান্ত করেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদী।

১৫ ওভার শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান। তিন নম্বরে নামা কেন উইলিয়ামসনও এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করছিলেন। ১৬তম ওভারে শরিফুলের শিকার হওয়ার আগে এই কিউই ব্যাটার করেন ১৫ বলে ২৪ রান। যেখানে ছিল এক চার ও এক ছক্কা। তার বিদায়ে ভাঙে তামিমের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি।

সঙ্গী হারালেও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন তামিম। ১৭তম ওভারেই তার ব্যাট থেকে আসে ৩ চার। তবে ওই ওভারেই তাকে ফেরানোর দ্বিতীয় সুযোগ হাতছাড়া করে রাজশাহী। পরের ওভারেই শেখ মেহেদীকে কাভারের উপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির আরও কাছে পৌঁছে যান তামিম। ১৯তম ওভারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, তবে আউট হয়ে যান পরের বলেই। শেষ দুই ওভারে ১৫ রান হওয়ায় ১৮০ রানের আগেই থামতে হয় রাজশাহীকে।

এসকেডি/এমএমআর