আন্তর্জাতিক

২ বছরের শিশুকে আটক করে ভিনরাজ্যে পাঠালো ট্রাম্পের আইসিই বাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র দুই বছরের শিশুকে আটক করলো ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই বাহিনী। ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই কন্যাশিশু ও তার বাবাকে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে আটক করে টেক্সাসে পাঠানোর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে মিনিয়াপোলিসে একটি দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় এলভিস জোয়েল টি ও তার মেয়েকে আটক করা হয়। সন্ধ্যার দিকে একজন ফেডারেল বিচারক শিশুটিকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেটি উপেক্ষা করেই অভিবাসন কর্মকর্তারা বাবা-মেয়েকে টেক্সাসের একটি আটক কেন্দ্রে পাঠান।

পরিবারের আইনজীবী ইরিনা ভাইনরম্যান জানান, পরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনকে আবার মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনে। শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হলেও বাবা এখনো আটক রয়েছেন।

আরও পড়ুন>>অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভযুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়লেই ৬ লাখ টাকা জরিমানা

ভাইনরম্যান বলেন, ‘এই ভয়াবহতা কল্পনার বাইরে। যা ঘটেছে, তা অবর্ণনীয় নিষ্ঠুরতা।’

আইনজীবীদের আবেদনে বলা হয়, বাড়িতে ফেরার সময় কোনো পরোয়ানা ছাড়াই অভিবাসন কর্মকর্তারা তাদের বাড়ির আঙিনা ও ড্রাইভওয়েতে প্রবেশ করেন। অভিযোগ উঠেছে, শিশুটি গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় জানালার কাচ ভেঙে দেন এক কর্মকর্তা। পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরে আতঙ্কিত অবস্থায় থাকলেও কর্মকর্তারা শিশুটিকে মায়ের কাছে দেওয়ার অনুমতি দেননি।

আইনজীবীদের দাবি, শিশুটিকে যে গাড়িতে নেওয়া হয়, সেখানে শিশু আসনও ছিল না।

ঘটনার পরপরই আইনজীবীরা জরুরি আবেদন করলে মিনেসোটার একজন ফেডারেল বিচারক রাত ৮টা ১০ মিনিটে বাবা-মেয়েকে অঙ্গরাজ্যের বাইরে স্থানান্তর নিষিদ্ধ করেন এবং পরে শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তির নির্দেশ দেন। বিচারক বলেন, শিশুটিকে আটক রাখলে ‘অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি’ রয়েছে এবং তার কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস নেই।

তবে আদালতের নির্দেশ জারির মাত্র ২০ মিনিট পরই বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসগামী প্লেনে তোলা হয় বলে অভিযোগ।

আইনজীবীরা জানান, ইকুয়েডর থেকে আসা এলভিস জোয়েল টির আশ্রয় আবেদন বিচারাধীন রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের চূড়ান্ত কোনো আদেশ নেই। শিশুটি যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতক অবস্থায় আসার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে বসবাস করছে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের সময় এলভিস জোয়েল টিকে শনাক্ত করা হয় এবং তিনি নাকি বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশ করেছিলেন। তবে শিশুর মাকে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবি আইনজীবীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এই ঘটনার সময় বাইরে জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে ‘ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ নেওয়া হয় বলে জানায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে কেমিক্যাল স্প্রে ও ফ্ল্যাশ-ব্যাং ব্যবহারের দৃশ্য দেখা গেছে।

আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, দ্রুত অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের আদালতের এখতিয়ার থেকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ, যা আইনি সহায়তা পাওয়াকে কঠিন করে তুলছে।

ভাইনরম্যান বলেন, ‘শিশুকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা যে কী ভয়াবহ, তা যে কেউ বুঝতে পারে। এই নিষ্ঠুরতার শেষ থাকা উচিত।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/