চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করলে কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প লেখেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সব কানাডীয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
একই পোস্টে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়াতে কানাডাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যদি মনে করেন, কানাডাকে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ‘ড্রপ অফ পোর্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, তাহলে তিনি মারাত্মক ভুল করছেন।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, কানাডা ও চীন প্রাথমিকভাবে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং শুল্ক কমানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়।
প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, কানাডা সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি সর্বাধিক সুবিধাভোগী দেশের জন্য নির্ধারিত ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্কহারে নিজেদের বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেবে। এর বিনিময়ে চীন কানাডার ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই চীন–কানাডা চুক্তিকেই সমর্থন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে চুক্তি করা কার্নির জন্য ভালো সিদ্ধান্ত এবং তিনি সেটাই করা উচিত।
এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করেন। যদিও কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো চুক্তির আওতায় কানাডার বেশিরভাগ রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয় না। তবে ইস্পাত, তামা এবং কিছু গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের আওতায় পড়ে।
কানাডার বিরুদ্ধে নতুন এই শুল্ক হুমকির আগে মার্ক কার্নিকে নিজের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে কার্নি বলেছিলেন, বিশ্বের মধ্যম শক্তিগুলোকে একজোট হয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, অর্থনৈতিক বলপ্রয়োগ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
মার্ক কার্নি আগের সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, তিনি বোর্ড অব পিসে যোগ দিতে আগ্রহী, তবে বিষয়টির বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই বোর্ডে স্থায়ী সদস্য হতে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য ১০০ কোটি ডলার ফি নির্ধারণের কথাও জানা গেছে।
সূত্র: সিএনবিসিকেএএ/