ব্যস্ত জীবন আর দৌড়ঝাঁপের মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হয় না। আমরা সাধারণত অসুস্থতার লক্ষণ খুঁজি, কিন্তু এমন কিছু শারীরিক সংকেত আছে যেগুলো দেখতে অস্বস্তিকর বা বিব্রতকর হলেও আসলে সুস্থতারই ইঙ্গিত দেয়। যেসব লক্ষণকে অনেকেই ‘অস্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যান, সেগুলোই কখনো কখনো বলে দেয়-শরীর ভেতর থেকে ঠিকঠাক কাজ করছে।
নাইজেরিয়ান-ব্রিটিশ চিকিৎসক তোলু বিনুতু তার ইনস্টাগ্রামে এমনই কয়েকটি লক্ষণের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো প্রমাণ করে যে শরীর স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ রয়েছে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই ‘অদ্ভুত’ কিন্তু ইতিবাচক সংকেতগুলো কী কী-
মলে হালকা গন্ধ থাকাচিকিৎসকদের মতে, মলে হালকা থেকে মাঝারি গন্ধ থাকা একেবারেই স্বাভাবিক। অন্ত্রে খাবার সঠিকভাবে হজম হওয়া এবং বর্জ্য শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলেই এই গন্ধ তৈরি হয়। বরং একেবারে গন্ধহীন মল কখনো কখনো অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত হতে পারে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পেট সমান থাকারাতভর বিশ্রামের সময় শরীর হজমের কাজ শেষ করে। তাই সকালে পেট কম ফোলা বা সমান থাকলে বুঝতে হবে আপনার হজম ও অন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিকঠাক রয়েছে। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত পানি পান করলে এই স্বাভাবিকতা বজায় থাকে।
বাহুমূলে হালকা গন্ধবডি ওডার নিয়ে অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু বগলে একেবারে কোনো গন্ধ না থাকাও সবসময় ভালো লক্ষণ নয়। ঘাম ও শরীরের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়ার মিশ্রণে হালকা গন্ধ হওয়া স্বাভাবিক এবং এটি সুস্থ দেহক্রিয়ার অংশ।
গভীর ঘুমে মুখ থেকে লালা পড়াক্লান্ত দিনের পর গভীর ঘুমে মুখের পেশি শিথিল হয়ে যায়, ফলে লালা পড়তে পারে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে আপনি গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম পাচ্ছেন-যা শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
শীত কম অনুভব করাঅন্যদের তুলনায় ঠান্ডা কম লাগলে ধরে নেওয়া যায় আপনার মেটাবলিজম ভালো কাজ করছে। শরীরের ‘ব্রাউন ফ্যাট’ সক্রিয় থাকলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সঠিকভাবে হয় এবং শরীর নিজেই উষ্ণতা ধরে রাখতে পারে।
হঠাৎ দীর্ঘশ্বাস ফেলাদিনের মাঝখানে হঠাৎ দীর্ঘশ্বাস নেওয়া শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এটি স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, ফুসফুসে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ায় এবং মস্তিষ্ককে সাময়িকভাবে শান্ত করে।
ক্ষুধা পেলে পেট গড়গড় করাপেট গড়গড় শব্দ করা মানেই অন্ত্র সক্রিয় হচ্ছে এবং হজম প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। খিদে লাগার সময় এই শব্দ হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর লক্ষণ।
প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ হওয়াঅনেকে মনে করেন একেবারে স্বচ্ছ প্রস্রাবই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, হালকা হলুদ রংই আদর্শ। এটি বোঝায় শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক আছে। অতিরিক্ত স্বচ্ছ প্রস্রাব কখনো কখনো বেশি পানি পান বা ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতির সংকেত হতে পারে।
শরীর সব সময় বড় কোনো অসুস্থতার মাধ্যমে বার্তা দেয় না। অনেক সময় ছোট, অদ্ভুত বলে মনে হওয়া লক্ষণই জানিয়ে দেয়-ভেতরে ভেতরে সব ঠিকঠাক আছে। তাই এসব সংকেতকে লজ্জা বা অস্বস্তির চোখে না দেখে নিজের সুস্থতার স্বাভাবিক বার্তা হিসেবেই গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আরও পড়ুন: অগোছালো ঘর দেখে নারী রেগে গেলেও পুরুষের কিছু মনে হয় না কেন কুষ্ঠ রোগ এখন আর আজীবনের অভিশাপ নয়
এসএকেওয়াই/