খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিস) দেওয়া চিঠির মুখে বন্ধ রয়েছে খুলনা ওয়াসার ‘পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের চলমান কাজ। আসন্ন নির্বাচনের আগে চলাচলের জন্য চলমান খনন কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে কেসিসি। গত ৪ জানুয়ারি ওয়াসাকে এই চিঠি দেওয়া হয়।
কেসিসির দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের আগে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে যেসকল রাস্তা খনন করা হয়েছে সেগুলো মেরামত করাসহ নতুন করে খনন না করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় খনন করা সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি নতুন করে সড়ক খননের কাজ ওয়াসা না কেসিসি কোন সংস্থা করবে সেই সিদ্ধান্ত পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, ওয়াসার কাজ বাস্তবায়নের জন্য কেসিসির আওয়াতাধীন বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ও সংযোগ সড়ক খুঁড়তে হয়েছে। একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখায় সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে খোঁড়া রাস্তা পুনরায় সংস্কার নিয়ে কেসিসি ও ওয়াসার মধ্যে সমন্বয় হচ্ছে না।
ওয়াসার প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাম্পিং স্টেশনের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের অক্টোবরে। ২০২৭ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। নগরীর ভেতরে ২৫৫ কিলোমিটার সড়কের নিচে পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে কেসিসির আওতায় আছে ২১৫ কিলোমিটার সড়ক। মাটির ২০-২৫ ফুট গভীরে পাইপলাইন বসিয়ে নেটওয়ার্কিংয়ের কাজ চলছে।
আরও জানা যায়, বর্তমানে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি বাড়ির সামনেই পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ বসানো হয়েছে। ওই পাইপ দিয়ে বর্জ্য পানি ও সেপটিক ট্যাংকের পানি নগরীর ভেতরের আটটি পাম্প স্টেশনে যাবে। সেখান থেকে পাম্প করে বর্জ্য নগরীর বাইরে মাথাভাঙ্গা ও ঠিকারাবাঁধে পরিশোধন কেন্দ্র দুটিতে পাঠানো হবে। দুইটি শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় ৫২ লাখ লিটার পয়ঃবর্জ্য শোধন করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে ২০২৩ সালে ৮ মাস কাজ বন্ধ ছিল। এছাড়া মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাজ বন্ধ ছিল প্রায় চারমাস। ফের খুলনা সিটি করপোরেশন কাজ বন্ধ রাখতে গত ৪ জানুয়ারি চিঠি দিয়েছে। রাস্তা সংস্কারের জন্য ৬৪১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে কেসিসি। কিন্তু প্রকল্পের ফান্ড থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৩০ কোটি টাকা ধরা হয় ও ১১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইতোমধ্যে ২১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। সাড়ে সাত হাজার ম্যানহোল স্থাপন করা হয়েছে। সাব-স্টেশন ও শোধনাগারের কাজ প্রায় ৭৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ। এমন সময় কেসিসির চিঠি সামগ্রিক কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর চলাচলে সমস্যার কারণে ওয়াসার চলমান প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওয়াসার এই প্রকল্পের কারণে কেসিসির অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করে আমরা তাদের জানিয়েছি। এর মধ্যে ১১০ কোটি টাকা কেসিসি পেয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ পেলে কেসিসি সংস্কার কাজ শুরু করবে।
প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্ষতিপূরণের অর্থের বিষয়ে সমাধানের লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে কেসিসি ও ওয়াসা বসেছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
খুলনা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক খান সেলিম আহমেদ বলেন, কেসিসির চিঠি পেয়ে ১৫টি সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের সময় পিছিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্নের পর পয়ঃনিষ্কাশনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করতে হবে। কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করতে হবে। এজন্য আমরা দ্রুত কাজ সম্পন্নের চেষ্টা করছি।
আরিফুর রহমান/এমএন/জেআইএম