‘গণভোট বলতে আমরা বুঝি জনগণের ভোট। জনগণ নিজের ভোট নিজে দেবে, এটাই গণভোট। কিন্তু যদি সেটা না হয়, তাইলে কি এখন আবার এরশাদের আমলের সেই গণভোট আইছে?’—এমনই প্রশ্ন তুলেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ফজলু হাওলাদার (৭৩)।
কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের জন্য দোলনা বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা এই বৃদ্ধের স্মৃতিতে গণভোট মানেই এরশাদ আমলের সেই ‘হ্যাঁ-না’ ভোট। তিনি বলেন, গণভোট অনেক আগে এরশাদের আমলে দিছি। কেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’তে দিলে বাড়ি আসতে পারছি, আর ‘না’তে দিলে পুলিশে ধরছে। এখন আবার বলতেছে গণভোট, তাই মনে হইতেছে সেই ভোটটাই বুঝি আবার আসছে’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো ভাবতেছি ভোটের বাক্স একটাই—‘হ্যাঁ’ না হয় ‘না’। গিয়ে একটা ভোট দিয়া আইসা পড়মু। কিন্তু এখন শুনতেছি ব্যালটও আছে, আবার ধান, দাঁড়িপাল্লা, পাখা—এইসব মার্কাও নাকি থাকবে। এইসব ইয়াং পোলাপান বুঝে, আমরা কিছুই বুঝি না।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উপকূলীয় এলাকায় নির্বাচনি আমেজ থাকলেও ‘গণভোট’ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে দেখা গেছে ব্যাপক বিভ্রান্তি। ফজলু হাওলাদারের মতো অনেকেই বুঝতে পারছেন না একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কীভাবে হবে। শুধু তাই নয়, এই আসনে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—সে বিষয়েও সঠিক তথ্য দিতে পারেননি অনেকেই।
স্থানীয় ট্যুর গাইড মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গণভোট কী—এইটা তো আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। আমরা জানি মার্কা থাকবে, পছন্দমতো ভোট দিমু।’
জেলে ও কৃষক অধ্যুষিত এই এলাকায় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ থাকলেও গণভোটের বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশব্যাপী প্রচার চালালেও গ্রামাঞ্চলের একটি বড় অংশ জানে না ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনটিতে ভোট দিলে কী ফলাফল আসবে। উপকূলের এই জনপদে নির্বাচনি প্রচারণার মাইকিং শোনা গেলেও সাধারণ ভোটারদের সচেতন করতে গণভোট নিয়ে আরও জোরালো প্রচারের প্রয়োজন দেখছেন স্থানীয়রা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মোট ভোটার দুই লাখ ১৪ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ আট হাজার ৮৩৬ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৫ জন। রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ভোটার ৯৪ হাজার ৮৬৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৪৭ হাজার ৬৬১ এবং নারী ৪৭ হাজার ২০৩ জন।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন (ধানের শীষ)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাইউম মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ১০-দলীয় জোটের পক্ষে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদকে (দেওয়াল ঘড়ি) সমর্থন দিয়েছেন।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/কেএইচকে/এমএস