অনেকেই মনে করেন - চা খাওয়ার অভ্যাস বুঝি একটি নেশা। আবার চা ছাড়া আড্ডা যেন অসম্পূর্ণ লাগে। কিন্তু এই পরিচিত পানীয়টি শুধু ক্লান্তি কাটানোর সঙ্গী নয়, নিয়মিত ও পরিমিতভাবে চা খেলে শরীরের জন্যও মিলতে পারে নানা উপকার।
গবেষণা বলছে, চায়ের পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো হৃদ্যন্ত্র থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত বিভিন্ন সিস্টেমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে কালো ও সবুজ চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। এর ফলে কোষের ক্ষয় কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
চা মানসিক সতর্কতাও বাড়ায়। এতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে জাগ্রত রাখে, আর এল-থিয়ানিন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড মনোযোগ বাড়াতে ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই কফির মতো অতিরিক্ত উত্তেজনা না এনে চা ধীরে ধীরে এনার্জি দেয় - যা অনেকের জন্য বেশি আরামদায়ক।
হজমের ক্ষেত্রেও চায়ের ভূমিকা আছে। খাবারের পর হালকা চা পেটের ভারভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চায়ের কিছু উপাদান অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এজন্য অনেক সংস্কৃতিতেই খাবারের পর চা পান করার চল আছে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিক থেকেও চা গুরুত্ব পায়। চায়ের পলিফেনল ও ক্যাটেচিন জাতীয় যৌগ শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা বা মৌসুমি সংক্রমণের সময় গরম চা অনেকের আরাম দেয়।
তবে চা খেলেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। অতিরিক্ত চা, বিশেষ করে খুব গরম চা, গলায় বা খাদ্যনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আবার বেশি চিনি বা ক্রীম মেশালে চায়ের উপকার কমে গিয়ে উল্টো ক্যালরি বাড়ে। তাই দিনে ২–৩ কাপ, কম চিনি বা চিনি ছাড়া চা খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত।
সূত্র: ওয়েবএমডি, হেলথলাইন, হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ
এএমপি/জেআইএম