হার্ট অ্যাটাক বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। যদি বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কোনো সাহায্যের আভাস না থাকে, তা ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার এই মুহূর্তে অসহায় বোধ হওয়া স্বাভাবিক। অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে মাথায় কিছুই আসে না। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আগে থেকে জানা থাকলে নিজের প্রাণ নিজেই বাঁচানো সম্ভব।
আসুন জেনে নেওয়া যাক বাড়িতে একা থাকলে কী করবেন-
প্রথমেই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো জানতে হবে। বুক চাপ লাগা বা চিনচিন করা, কাঁধ বা চোয়ালে ব্যথা, শারীরিক অস্বস্তি-এই সংকেতগুলোকে ঘাটতি না মেনে গুরুত্ব দিন। এমন অবস্থায় দ্রুত পরিবারের সদস্যদের জানান এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ফোন করার পর শান্ত থাকা অপরিহার্য। লক্ষণগুলোকে দেখে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু অতিরিক্ত আতঙ্ক আপনার শরীরের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের সময়ে বেশি পরিশ্রম বা চলাফেরা এড়িয়ে চলুন। উঠে পড়া বা ঘোরাফেরা করলে লক্ষণগুলো আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই শান্ত থাকা এবং বসে বা শুয়ে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ।
যদি বাড়িতে একা থাকেন এবং হার্ট অ্যাটাক হয়, দাঁড়িয়ে থাকবেন না। সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়ুন বা শুয়ে পড়ুন। দাঁড়িয়ে থাকলে জ্ঞান হারানো বা অন্য দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের সময় অ্যাসপিরিন চেবানো বা সরবিট্রেট ট্যাবলেট জিভে রাখা জরুরি। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়, তবে হার্টের পেশিকে শিথিল করতে এবং রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে সাহায্য করে। জরুরি অবস্থায় এই ধরনের ওষুধ হাতের কাছে রাখা নিরাপদ।
সঙ্গে সঙ্গে পরিচিত কাউকে ফোন করুন। এমন মুহূর্তে চেঁচিয়ে ডাকার পরিস্থিতি নাও তৈরি হতে পারে। তাই আপনার কাছে থাকা ইমারজেন্সি নম্বরে কল করুন। ফোনে কথা বলা বা ফোন ধরে রাখার মাধ্যমে অন্যজন বুঝতে পারবে আপনার বিপদের কথা।
অনেক সময়ে হার্ট অ্যাটাক ঘুমের মধ্যে ঘটে, তখন সাহায্যের সুযোগ থাকে না। কিন্তু জেগে থাকা অবস্থায় বিপদ হলে নিজেকে বাঁচানোর রাস্তা থাকে। শরীরে অস্বস্তি অনুভব করলেই বাড়ির মূল দরজা খুলে রাখুন, যাতে কেউ সাহায্য করতে গেলে ভেতরে ঢুকতে পারে। এই ছোট সতর্কতা জীবন বাঁচাতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আরও পড়ুন:শীতে গোসলে যে ভুল করলে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি, সতর্কতা জরুরি
এসএকেওয়াই/