সিলেটের জকিগঞ্জে হাওর থেকে আগুনে পোড়ানো ও গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি ও বিলপার এলাকার মধ্যবর্তী কোনারবন্দ হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির নাম বুরহান উদ্দিন শফি (৫৯)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মৃত সমছু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, বুরহান উদ্দিন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছিলেন। তিনি গত ২৮ জানুয়ারি স্ত্রী সন্তান নিয়ে দেশে আসেন। পরে ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় স্বজনরা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি ও বিলপার এলাকার মধ্যবর্তী কোনারবন্দ হাওর থেকে মরদেহটি পরে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।উদ্ধারের পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে।
পুলিশ জানায়, মরদেহটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনে পোড়ানোর স্পষ্ট চিহ্ন এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। পুলিশের ধারণা, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে নিহতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতের স্বজনরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন। বুরহান উদ্দিন যুক্তরাজ্য থেকে গত ২৮ জানুয়ারি স্ত্রী সন্তান নিয়ে দেশে আসেন। পরে ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন।
ওসি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
আহমেদ জামিল/কেএইচকে/জেআইএম