শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষকরা বেশি টাকা না পেলেও সমাজে মর্যাদা ভালো: উপদেষ্টা

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বেশি না হলেও তাদের সামাজিক মর্যাদা বেশ ভালো বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা অর্থমূল্যে (বেতন-ভাতা) খুব বেশি কিছু পান না, তবে তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ছে; এটা ভালো। যেসব স্কুলে ভালো শিক্ষা দেওয়া হয়, সেসব স্কুলের কমিউনিটির মানুষ শিক্ষকদের সম্মান করেন।’

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশা-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে প্রত্যেকটি স্কুলকে একটি অটোনোমাস বডির মতো গড়ে তুলতে হবে। কারণ আমরা দেখেছি, এতগুলো সীমাবদ্ধতার মধ্যদিয়েও আমাদের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় খুব ভালোভাবে শিক্ষাদান করছে। আমি নিজেই বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শনে যাওয়ার আগে এটা বিশ্বাস করতাম না যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এত ভালো শিক্ষা দেওয়া হয়। স্কুলে ঘুরে আমি দেখেছি, কীভাবে একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক টিমওয়ার্কের মাধ্যমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে কাজ করেন। তাই স্কুলগুলো অটোনোমাস বডির মতো কাজ করলে শিক্ষার মান আরও ভালো হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার স্কুলে বাজেট দেবে, ইনপুট দেবে এবং একটি তৃতীয় পক্ষ থাকবে; যা আমরা ডিজাইন করেছি এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আরেকটি পরিবীক্ষণ ইউনিট হিসেবে একাডেমিক অ্যাসেসমেন্ট করবে। তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অর্জন কেমন হচ্ছে, সে বিষয়ে গবেষণা করবে এবং মমন্ত্রণালয়কে সুপারিশ দেবে। আমরা দেখতে চাই, আমাদের পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিশুরা কী কী যোগ্যতা অর্জন করেছে। এছাড়া আমাদের পরিকল্পনায় আছে, মন্ত্রণালয় নয়, বরং জেলাপর্যায়ে নিয়োগ, বদলিসহ সবকিছু করা। এতে শিক্ষকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’

অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে জনবল। সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে এবং দক্ষ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ মানবসম্পদ তৈরি না হলে রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে কন্ট্যাক্ট আওয়ার বৃদ্ধি, একাধিক শিফটের পরিবর্তে এক শিফটে বিদ্যালয় পরিচালনা, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি—এসব বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আরেকটি সমস্যা ম্যানেজমেন্টে। আমরা বড় বড় কথা বলি, ডিজিটালাইজেশনের কথা বলি, কিন্তু সব জায়গায় ফাঁকি। কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, কিন্তু সব জায়গায় ফাঁকি বিদ্যমান। ডিপিইতে বিশাল একটি সিস্টেম আছে, কিন্তু বাস্তবে সেখানে আপডেটেড কোনো ডাটা পাওয়া যায় না। আমরা আধুনিক প্রযুক্তিটাও ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার হলে মানুষের জীবন সহজ ও স্মার্ট করা সম্ভব। কিন্তু প্রয়োগে আমাদের সমস্যা। কাজেই শিক্ষকদের যে সময় নষ্ট হয়, সেটি কমিয়ে কীভাবে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো যায়, সে চিন্তা আমাদের আছে।

তিনি বলেন, এ গবেষণার তথ্য হয়তো নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে, তবে এর উদ্দেশ্য আরও বৃহৎ—এনজিও, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে সরকারের ওপর একটি ইতিবাচক চাপ তৈরি হয় এবং শিক্ষকদের শিক্ষার বাইরে নানান কাজে ব্যবহার না করা হয়।

উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় বলেন, শিক্ষা খাতে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো একটি বড় বাস্তবতা। এটি এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়; জাতীয় পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।

এএএইচ/বিএ