পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দিন-রাত সমানতালে চলছে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার মহোৎসব। এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে কাটা এই মাটি দেদারসে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটায়। এতে একদিকে আবাদি জমি যেমন উর্বরতা হারাচ্ছে, অন্যদিকে মাটিবাহী ভারী ট্রাক্টরের দাপটে ধুলোবালি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার অরনকোলার বাগবাড়িয়া মাঠপাড়া ও মুলাডুলির পতিরাজপুর এলাকায় গিয়ে পুকুর খননের নামে মাটি কাটার দৃশ্য দেখা যায়। ফসলি জমি থেকে তিন থেকে চার ফুট গভীর করে সরিষার জমি থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটিগুলো ট্রাকযোগে ইটভাটাগুলোতে নেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড ধুলা ও তীব্র শব্দে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এস্কেভেটর (ভেকু) চালক দেলোয়ার হোসেন জানান, মাটি কাটার জন্য ঈশ্বরদীর অরনকোলা গরুহাট এলাকার মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম তাদের ভাড়া করে নিয়ে এসেছেন। ঘণ্টা ও দিন চুক্তিতে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাক্টর যোগে ইট ভাটা নেওয়া হচ্ছে।
মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, জমিটির মালিক উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারি এলাকার জহুরুল ইসলাম। তিনিই তার জমিতে পুকুর খননের জন্য বিশেষ চুক্তিতে তাকে দিয়ে মাটি কাটাচ্ছেন। সেই মাটি তিনি নিকটবর্তী ইটভাটায় বিক্রয় করছেন। ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রয় করার জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো অনুমতি তিনি নেননি। আবার জমির মালিক জহুরুল ইসলাম প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন কিনা তা তিনি জানেন না। তবে সব কিছু ম্যানেজ করেই মাটি কাটছেন বলেও দাবি করেন মাটির এই ব্যবসায়ী।
মাটি ক্রেতা একটি ইটভাটার মালিক জিন্নাহ আলী জানান, ইট নির্মাণের জন্য মাটির প্রয়োজন। তাই মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুলের কাছ থেকে মাটি কেনা হয়েছে। সেই মাটি ট্রাকযোগে ইটভাটায় আনা হচ্ছে। কীভাবে, কার মাটি আশরাফুল কেটে বিক্রয় করছে তা তাদের জানা নেই বলেও দাবি করেন ইটভাটার মালিকরা।
এ বিষয়ে জানতে বিভিন্নভাবে জমির মালিক জহুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন বলেন, কৃষি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করা মানে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা। আর জমির শ্রেণির পরিবর্তনের জন্য জমির মালিককে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে হয়। জেলা প্রশাসক যদি অনুমতি দেন তাহলেই কেবল জমি মাটি কাটা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, জমির উপরিভাগের (টপ সয়েল) মাটিই হলো ফসল উৎপাদন শক্তি। জমির উপরিভাগের মাটি কাটা হলে সেই জমিতে নতুন করে ফসল উৎপাদন করতে হলে কম পক্ষে ২০ বছর সময় লাগে। ফসলি জমির মাটি কাটা আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। এভাবে মাটি কাটার কারণেই ক্রমেই আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এই জন্য জমির মালিকদের বিশেষভাবে সচেতন হওয়া উচিত।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শেখ মহসীন/কেএইচকে/এএসএম