ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার: ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ডাকসুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর প্রতিবাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির জবাব চেয়ে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা। এ সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আলটিমেটাম দেন তারা। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় তারা ‘বাঁশের লাঠি তৈরি কর, ছাত্রলীগ ধোলাই কর’; ‘মুজিব মুর্দাবাদ’; ‘ছাত্রলীগ পোস্টারিং করে, প্রশাসন কী করে’-সহ নানা স্লোগান দেন।

এ সময় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর বিষয়ে প্রক্টর অফিসে ছাত্র প্রতিনিধিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে কথা বলেন। 

প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘পোস্টার কখন লাগিয়েছে আমি যদি জানতাম তাহলে তো ওরে ধরে ফেলতাম। আমি সিকিউরিটি অফিসারকে বলেছি প্রত্যেক দারোয়ানের পরিচয় বের করো এবং এস্টেট অফিস যেন এখনই ওদের বরখাস্ত করে। আমরা ওদের প্রত্যেককে ডাকবো, ওখানে কী হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার আমরা কঠোর ব্যবস্থায় যাবো। আমাদের চারুকলায় ওখানে দারোয়ান থাকে, কার্জন হলে দারোয়ান থাকে, কলাভবনে দারোয়ান থাকে, তারপরও কীভাবে এরা লাগায়? আমি প্রভোস্ট এবং এস্টেট অফিসকে বলেছি, এদের তালিকা তৈরি করো।’

প্রক্টর অফিস থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের ডাকসু সমাজ সেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনটি (ছাত্রলীগ) গতরাতেই শুধু নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কাজ করেছে। তারা শেখ হাসিনার ছবি, ব্যানার টানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ গেটে তালা লাগানোর মতো কাজ করেছে। প্রশাসনের অবহেলার কারণেই তারা এসব করার সাহস পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তারা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর সাহস পায়? আমরা প্রক্টরকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছি সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য।’

জুবায়ের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উদ্দেশে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে চোরের মতো এসে পোস্টার লাগিয়ে যেও না, যদি ধরা পড়ো তবে কুত্তার মতো পেটানো হবে। যারা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।’ দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে আলোকপাত করে তিনি পাবনা, নরসিংদী ও রামপুরায় নারী ও শিশুধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে ধর্ষণ, হত্যা ও চাঁদাবাজির যে মহোৎসব চলছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

এফএআর/ইএ