ময়মনসিংহের ভালুকায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে প্রায় ১৪ টন রড ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভালুকা মডেল থানায় ট্রাকমালিক মো. আসাদুজ্জামান (তরুন) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের আখালিয়া এলাকায় রডভর্তি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ট্রাকমালিক মো. আসাদুজ্জামান (তরুন) ময়মনসিংহ নগরীর গোহাইলকান্দি এলাকার বাসিন্দা। ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন চালক মো. এরশাদুল।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে একটি ট্রাকে ১৪ টন রড নিয়ে ট্রাকমালিক মো. আসাদুজ্জামান (তরুন) ময়মনসিংহ শহরের আবুল খায়ের ডিপোর দিকে রওনা দেন। শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের আখালিয়া এলাকায় জিনজির শাহ মাজারের বিপরীত পাশ পর্যন্ত ট্রাকটি আসা মাত্রই ডাকাত দলের কবলে পড়ে। এসময় প্রথমে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস পেছন থেকে এসে ট্রাকটিকে সিগন্যাল লাইট দিয়ে গতিরোধ করে।
সাত সদস্যের দলটির একজনের পোশাকে ডিবি লেখা ছিল। তারা ট্রাকটি থামিকে ট্রাকের মালিক ও চালককে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে উঠিয়ে ট্রাক ও ট্রাকে থাকা ১৪ টন রড অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। এ ছাড়া ট্রাকমালিক আসাদুজ্জামানের কাছে থাকা ২৫ হাজার ৩০০ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেন। পরে ট্রাকের মালিক ও চালককে ভোরে ঢাকার পূর্বাচলের ১৫ নম্বর সেক্টরে নামিয়ে দেন।
এ ঘটনায় শনিবার ভালুকা থানায় এসে আসাদুজ্জামান অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ।
ট্রাকের মালিক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পেছন থেকে আসা সাদা রঙের মাইক্রোবাসটি ট্রাক থামিয়ে কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয় দিতে থাকেন। এসময় তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ, ওয়্যারলেস সেট দেখিয়ে ট্রাকে অবৈধ মাল আছে বলে ট্রাক থেকে আমাদের নামিয়ে তাদের মাইক্রোতে তুলে নেন। এরপর চোখ ও হাত-পা বেঁধে মারধর শুরু করেন। পরে ভোরে রাস্তার পাশে ফেলে যান। প্রায় ১৪ টন রডসহ ট্রাক নিয়ে গেছে ডিবি পরিচয়ধারী দুর্বৃত্তরা।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। মালামাল উদ্ধারসহ ডিবি পরিচয়ধারী দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদের গ্রেফতার করে পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চক্রটিকে ধরতে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে কাজ করছে। দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এরপর এই চক্রের অন্য সদস্যদেরও চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/জেআইএম