আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: পেন্টাগন

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা ইরানের ছিল না। রোববার (১ মার্চ) মার্কিন কংগ্রেসের স্টাফদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই স্বীকারোক্তি দেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। বৈঠক সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানের ওপর গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ডু্বিয়ে দেওয়া হয় ইরানের যুদ্ধজাহাজ, আর এখন পর্যন্ত হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

কিন্তু কংগ্রেসকে রোববার (১ মার্চ) দেওয়া ব্রিফিং এই যুদ্ধ শুরুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কারণ এর আগের দিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর ‘সম্ভবত আগাম হামলা’ চালাতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান শুরু করেন।

এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাননি ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে হামলা সহ্য করতে দিতে প্রস্তুত ছিলেন না।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ডিলান জনসন জানান, পেন্টাগন কর্মকর্তারা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান স্টাফদের ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ইরানে চলমান মার্কিন হামলার বিষয়ে ব্রিফিং দেন।

তবে দুই সূত্র রয়টার্সকে জানান, ওই ব্রিফিংয়ে পেন্টাগন জোর দিয়ে বলে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’। তবে তারা স্বীকার করেনে যে, তাদের কাছে এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই যেখানে তেহরান আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

ট্রাম্প বলেছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে এমন এ হামলার লক্ষ্য হলো- ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পেতে পারে তা নিশ্চিত করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতি হুমকি দূর করা। তিনি ইরানের জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বানও জানিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা

এদিকে, ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ তুলেছেন য ট্রাম্প এক ধরনের ‘স্বেচ্ছাচারী যুদ্ধ’ শুরু করেছেন। তারা মধ্যস্থতাকারী ওমানের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, শান্তি আলোচনায় সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প যে যুক্তি দেখিয়ে আলোচনার টেবিল ছাড়লেন, তা প্রমাণহীন।

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জন করতে চলেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা রিপোর্ট এই তথ্য সমর্থন করে না, বরং বিষয়টির অতিরঞ্জন হয়েছে বলে মনে করেন এসব রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ