জাতীয়

বাণিজ্য চুক্তি বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন পল কাপুর

দুদিনের সফরে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস. পল কাপুর। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পল কাপুরের এ সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ মুহূর্তে করে যাওয়া বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যেই ঢাকায় পা রাখছেন পল কাপুর।

তার এ সফর নিয়ে সম্প্রতি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর্ট (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। তবে গত মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্কারোপ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।

এ পরিস্থিতিতে পাল্টা শুল্ক কার্যকর না থাকলেও কাপুরের সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে ঢাকাকে পরামর্শ দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মার্চের শুরুতে পল কাপুরের ঢাকা সফরের বিষয়টি অবহিত করেন।

সূত্র বলছে, পল কাপুরের এ সফরে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। সফরকালে বাণিজ্য, জ্বালানি, শ্রম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী আর্ট চুক্তির আলোচনায় ভিন্নমত পোষণকারী নেগোশিয়েটর ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি ভারসাম্যপূর্ণ হয়নি এবং এতে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টে (এনডিএ) সরাসরি চীনের প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল এবং সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীসময়ে চুক্তিটির বিস্তৃত শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অপছন্দের যে কোনো উৎস থেকেও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বাধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কূটনীতিকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে এমন একটি চুক্তি করা সমীচীন হয়নি এবং আলোচনায় বাংলাদেশের দরকষাকষির সক্ষমতা যথেষ্ট প্রতিফলিত হয়নি। চুক্তির বিভিন্ন ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর এরই মধ্যে জানিয়েছে—বিচারাধীন পরিস্থিতির মধ্যেও অংশীদার দেশগুলো সৎ বিশ্বাসের ভিত্তিতে চুক্তিতে সই করেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য চুক্তিগুলো কার্যকর থাকবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আলোচনার সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত কৌশলগত প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিএফসি তহবিল ব্যবহার করে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সেই বিনিয়োগের কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ ছিল।

তাদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করে যাওয়া বর্তমান চুক্তির কিছু শর্ত বাংলাদেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জেপিআই/এমকেআর