রোজায় সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিতে হয়, যা সারাদিনের রোজা রাখার শক্তি জোগাবে। তাই সেহরিতে কী খাওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অনেক পরিবারেই সেহরির টেবিলে দেখা যায় দুধ, কলা ও ভাত খেয়ে থাকে। পেট ভরানো ও দ্রুত প্রস্তুত করা যায় বলে এটি বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই সেহরিতে দুধ ভাত না হলে চলে না। তবে প্রশ্ন হলো সেহরিতে দুধ,কলা ভাত খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে তা জেনে নেওযা যাক ।
শক্তির ভালো উৎসদুধ,কলা ভাত তিনটি খাবারই শক্তির ভালো উৎস। ভাত থেকে পাওয়া যায় কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে দ্রুত শক্তি দেয়। কলা প্রাকৃতিক চিনি, পটাশিয়াম ও ফাইবারে সমৃদ্ধ। এটি পেশির কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সময় দুর্বলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও কিছু স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়।
দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখেএই তিনটি একসঙ্গে খেলে শরীর কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও খনিজ পাওয়া যায়। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে দুপুর পর্যন্ত ক্ষুধা কম লাগে। বিশেষ করে যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন বা দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়, তাদের জন্য এই সংমিশ্রণটি তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী শক্তি দুটোই দিতে পারে।
ঘুম হয় ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামিনো অ্যাসিডের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা থেকে ‘সেরোটোনিন’ হরমোন তৈরি হয়। সেরোটোনিন মনের স্থিতি ভালো রাখতে এবং শরীরকে শান্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেহরিতে ভাত খেলে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর কিছুটা আরাম অনুভব করতে পারে, ফলে খাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ঘুম ঘুম ভাব আসতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরির খাবারে জটিল কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার থাকা উচিত। দুধ,কলা,ভাতের সঙ্গে যদি সামান্য বাদাম, চিয়া সিড বা এক টুকরো ফল যোগ করা যায়, তাহলে পুষ্টিমান আরও বাড়ে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সারাদিন পানিশূন্যতা না হয়।
তবে সেহরিতে দুধ ভাত খেলে সমস্যা ও হয় যেমন -
অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক দুধ ও কলা একসঙ্গে খেলে অনেকের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা হয়। আবার কারো কারোক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তারা দুধ খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন।
একইভাবে যাদের দুধে অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য দুধ–ভাতের সংমিশ্রণও হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভাত বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে তা হজম হতে সময় নেয়, ফলে পেটে ভারী ভাব বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।
দ্রুত রক্তে শর্করা ওঠানামাভাত ও কলা-দুটিই কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর আবার তা কমে গিয়ে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগতে পারে। তাই যাদের ডায়াবেটিস বা হজমের সমস্যা আছে, তারা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে সেহরির খাবার ঠিক করাই ভালো।
হজম ধীর হওয়াদুধে থাকা প্রোটিন ও চর্বি এবং ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট একসঙ্গে হজম হতে সময় নেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এতে অম্বল বা বুক জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
যেভাবে অসুবিধা কমানো যায়১. পরিমাণ কম রাখুন।২. দুধের বদলে ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ ব্যবহার করতে পারেন (যদি সহ্য না হয়)।৩. সাদা ভাতের বদলে লাল চাল বা পরিমিত পরিমাণ নিন।৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।৫. খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না।
সূত্র: হেলথ শটস,মেডিসিন নিট, টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:ফাইবার চাইলে বেছে নেবেন কোন ফল ডায়রিয়া কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে
এসএকেওয়াই