খেলাধুলা

৯০০ গোলের কাছাকাছি মেসি, রোনালদোর ৩৫ পেনাল্টি মিস, আরও যেসব ঘটনা ঘটলো

ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে সপ্তাহান্তের ফুটবল ছিল রোমাঞ্চে ভরা। একদিকে লিওনেল মেসি ছুঁইছুঁই করছেন ৯০০ গোলের মাইলফলক, অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে ৩৫তম পেনাল্টি মিসের রেকর্ড। একই সময়ে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল হ্যাটট্রিক করে ক্লাব ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন।

প্রিমিয়ার লিগে জমে উঠেছে শিরোপা দৌড়

ইংল্যান্ডে শিরোপা লড়াইয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও উত্তেজনা কমেনি। আর্সেনাল কঠিন লড়াইয়ে চেলসিকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ম্যানচেস্টার সিটিও লিডস ইউনাইটেডকে হারিয়ে ব্যবধান অটুট রেখেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিটের লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল প্রতিযোগিতায় টিকে আছে। তবে অ্যাস্টন ভিলা উলভারহ্যাম্পটনের কাছে হেরে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। লিভারপুলকেও হারিয়েছে উলভসরা।

লা লিগায় বার্সার দাপট

স্পেনে বার্সেলোনা ভিয়ারিয়ালকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। এ ম্যাচেই লামিন ইয়ামাল হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন, যা তাকে ক্লাবের সবচেয়ে কম বয়সী হ্যাটট্রিককারীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। রিয়াল মাদ্রিদ গেটাফের কাছে হারের কারণে বার্সা এগিয়ে গেলো চার পয়েন্টে।

সিরি আ’তে ইন্টার অপ্রতিরোধ্য

ইতালিতে ইন্টার মিলান ২-০ গোলে জেনোয়াকে হারিয়ে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এসি মিলান ২-০ ব্যবধানে ক্রেমোনেজেকে হারালেও শীর্ষের ব্যবধান এখনো ১০ পয়েন্ট। অন্যদিকে নাপোলি ৩-৩ ড্র করা রোমাকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

বুন্দেসলিগায় ‘ডার ক্লাসিকার’-এর রোমাঞ্চ

জার্মানিতে বায়ার্ন মিউনিখ ৩-২ গোলে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়েছে ১১-তে। বাকি আছে মাত্র ১০ ম্যাচ, ফলে বায়ার্নের শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনাই এখন বেশি।

লিগ ওয়ানে পিএসজির অগ্রগতি

ফ্রান্সে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই লে আভরের বিপক্ষে জয় পেয়ে শীর্ষে চার পয়েন্টে এগিয়ে গেছে। লেন্স ড্র করায় ব্যবধান আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে ইউরোপের ফুটবল মঞ্চে শিরোপা দৌড় ও ব্যক্তিগত রেকর্ড—দুই ক্ষেত্রেই জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা। মেসির ৯০০ গোলের অপেক্ষা, রোনালদোর হতাশা আর ইয়ামালের উত্থান-সপ্তাহান্তের ফুটবল যেন ছিল গল্পে ভরা এক নাট্যমঞ্চ।

প্রিমিয়ার লিগ

৫: আর্সেনাল টানা পাঁচটি হোম ম্যাচে চেলসিকে হারিয়েছে- ১৯৯০-৯৪ সালের পর প্রথমবার। চলতি মৌসুমে লন্ডন ডার্বিতে একমাত্র অপরাজিত দল আর্তেতার শিষ্যরা (৭ জয়, ২ ড্র, ০ হার)।

১৬ ও ২৪: কর্ণার থেকে আর্সেনালের ১৬ গোল- প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চের সমান। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কর্ণার থেকে ২৪ গোল, যা ২০১১-১২ মৌসুমের পর ইউরোপের শীর্ষ চার লিগে সর্বোচ্চ।

৩২: সব প্রতিযোগিতায় আর্সেনালের সেট-পিস গোল ৩২টি। ২০১২-১৩ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের ৩৮ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র ৬টি পিছিয়ে গানাররা।

৭: চেলসি এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৭টি লাল কার্ড দেখেছে। ইতিহাসে মাত্র ছয় দল এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি লাল কার্ড পেয়েছে- সর্বশেষ কিউপিআর (৯টি, ২০১১-১২)। ২০২৫-২৬ মৌসুমে চেলসির ৭ জন ভিন্ন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন; ২০০৯-১০ সান্ডারল্যান্ড (৮) ও ১৯৯৪-৯৫ লেস্টার সিটি (৮) ছাড়া আর কোনো দলের এত বেশি ভিন্ন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেনি।

১০: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দুই দফায় কোচিংয়ে মাইকেল ক্যারিক ১০ ম্যাচে অপরাজিত (৮ জয়, ২ ড্র)। প্রথম হারের আগে ওলে গানার সোলসায়ের খেলেছিলেন ১১ ম্যাচ (২০১৮-১৯)।

৯৭: ব্রুনো ফার্নান্দেস সব প্রতিযোগিতায় ইউনাইটেডের হয়ে ৯৭তম অ্যাসিস্ট করেন- ১৯৯২-৯৩ পরবর্তী সময়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ (রায়ান গিগস ২৪৯, ওয়েইন রুনি ১২৭, ডেভিড বেকহ্যাম ১১৫)।

১০: প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যাম হটস্পার টানা জয়হীনতার ধারা ১০ ম্যাচ। গত ৩০ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম এবং ১৯৯৪ সালের রেকর্ডের সমান।

স্প্যানিশ লা লিগা

১: লামিন ইয়ামালের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। ১৮ বছর ২৩০ দিনে তিনি লা লিগার তৃতীয় কনিষ্ঠ হ্যাটট্রিককারী। বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ (জিওভানি দোস সান্তোসের রেকর্ড ভাঙেন)।

১০১: ক্লাব ও দেশের হয়ে ইয়ামালের মোট গোলে অবদান ১০১ (৪৯ গোল, ৫২ অ্যাসিস্ট)। চলতি মৌসুমে লিগে ১৩ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট। ২০২০-২১ এ লিওনেল মেসির পর প্রথমবার বার্সার কেউ এককভাবে গোল ও অ্যাসিস্টে শীর্ষে।

২৭: ১৯ বছরে পা দেওয়ার আগেই ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে ২৫ প্লাস গোল- এই শতাব্দীতে প্রথম ইয়ামাল (মোট ২৭)।

৪৬: বার্সেলোনা টানা ৪৬ লা লিগা ম্যাচে গোল করেছে- ইতিহাসের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ধারার থেকে ৮ ম্যাচ দূরে।

১৪: অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজ ১৪ ম্যাচের গোলখরা কাটান- ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম লিগ গোলশূন্য থাকার ধারা।

১০০০: রিয়াল সোসিয়েদাদ লা লিগা ইতিহাসে ১০০০ প্লাস জয় পাওয়া অষ্টম দল।

ইতালিয়ান সিরি আ

১৪: এসি মিলান টানা ১৪ অ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত- ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কেবল বায়ার্ন (২১) এগিয়ে।

৮: ইন্টার মিলান টানা ৮ লিগ জয়- ২০২৪ সালের পর দীর্ঘতম ধারা।

২৩: হাকান চ্যালহানোগলু ২৫ পেনাল্টির ২৩টি সফল (ইন্টারের হয়ে ২৩টির ২১)।

২০: ফেডেরিকো দিমারকো ২০ গোল অবদান (৬ গোল, ১৪ অ্যাসিস্ট)- ২০০৫-০৬ মৌসুমের পর প্রথম কোনো ডিফেন্ডার।

২৮১: রোমেলু লুকাকুর ২৮১ দিন পর লিগ গোল— শীর্ষ পাঁচ লিগে তার দীর্ঘতম গোলখরা।

জার্মান বুন্দেসলিগা

৩০ ও ৪৫: হ্যারি কেইনের ৩০ লিগ গোল- গত মৌসুমের ২৬ ছাড়িয়ে। সব প্রতিযোগিতায় ৪৫ গোল- ক্যারিয়ার সেরা।

১০ ও ২৪: এই মৌসুমে কেইনের ১০ পেনাল্টি গোল- পল ব্রাইটনারের রেকর্ডের সমান। বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর ২৪টির ২৪টিই সফল।

২১: বায়ার্ন টানা ২১ অ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত- ২০১২-১৪–এর পর দীর্ঘতম।

মেসি-রোনালদো ওয়াচ

৩৫: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের ৩৫তম পেনাল্টি মিস। ক্লাব ও দেশের হয়ে ১০০০ গোল থেকে ৩৫ গোল দূরে রয়েছেন তিনি (বর্তমানে ৯৬৫)।

৮৯৮: লিওনেল মেসির মোট গোল ৮৯৮টি। ইন্টার মিয়ামির হয়ে ৯০ ম্যাচে ৭৯ গোল। পেনাল্টি ছাড়া গোল (৭৮৬) ও ফ্রি-কিক (৭০)- দুটিতেই রোনালদোর চেয়ে এগিয়ে।

২২: ২০০৫ সাল থেকে টানা ২২ ক্যালেন্ডার বছরে গোল করেছেন মেসি- অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা।

আইএইচএস/