আইন-আদালত

প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কয়েকজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্তে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ কমিটি গঠন করেন। যার নেতৃত্বে তিনি নিজেই রয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

বাকি সদস্যরা হলেন-প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মার্জিনা রায়হান মদিনা, জহিরুল আমিন, ট্রাইব্যুনালের একজন গবেষণা কর্মকর্তা।

এর আগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে দুপুরে সাংবাদিকদের জানান চিফ প্রসিকিউটর। সকালে চিফ প্রসিকিউরের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সেখানে অধিকাংশ প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ঘটনায় চিফ প্রসিকিউটর মর্মাহত হন ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি সবাইকে দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে আহ্বান জানান।

আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুর্নীতির অভিযোগ এলে বরদাশত করা হবে না।

ট্রাইব্যুনালে কাজ করতে হলে নির্লোভ হতে হবে। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে সবাইকে। এমন না হতে পারলে এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। যে কেউই চলে যেতে পারবেন।

বৈঠকে প্রসিকিউটররা বিভিন্ন মতামত দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় কী, কীভাবে বিষয়টি সমাধান করা যায়, এ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই ঘটনা তদন্তে কোনো কোনো প্রসিকিউটর অভ্যন্তরীণভাবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে সম্প্রতি প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ ৯ মার্চ বিচারাধীন মামলার আসামিকে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অন্য একজন প্রসিকিউর সাইমুম রেজা তালুকদারের ঘুস চাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড থেকে জানা গেছে, মামলার আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে প্রসিকিউশন টিমের সদস্য ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন।

প্রসিকিউটর সাইমুম এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন, যা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এফএইচ/এমআইএইচএস/