অর্থনীতি

নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতা ব্যবসায়িক পরিবেশে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে

জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তা ব্যবসায়িক পরিবেশে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি, কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সফল নির্বাচনের পর দেশে স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা ব্যবসায়িক পরিবেশে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পোশাক খাত আগামী এক দশকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং বর্তমানে ২৭৫টি লিড প্রত্যয়িত কারখানা নিয়ে সবুজ শিল্পায়নে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের এই নিরন্তর অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।’ 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের আজকের অবস্থানের পেছনে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর অব্যাহত আস্থা ও অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি টেকসই শিল্প গড়তে উন্নয়ন সহযোগীদের নির্দেশনামূলক ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষ থেকে এইচঅ্যান্ডএমের কান্ট্রি হেড জিয়াউর রহমান বক্তব্য দেন। তিনি পোশাক শিল্পের নীতি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে সরকারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা ও সমন্বয় বজায় রাখার জন্য বিজিএমইএর প্রতি আহ্বান জানান।

ইফতারে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ফয়সাল সামাদ, নাফিস-উদ-দৌলা, মজুমদার আরিফুর রহমান, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, কাজী মিজানুর রহমান, জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, ফারুক হাসান, রুমানা রশীদ, মোহাম্মদ সোহেল ও সামিহা আজিম এবং বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানরা।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্য থেকে উপস্থিত ছিলেন আইএলওর টিম লিডার জারিয়াথ তামান্না ও টেকনিক্যাল অফিসার চয়ানিচ থামপারিপাতরা, জিআইজেডের প্রজেক্ট হেড ড. মাইকেল ক্লোড, কেএফডব্লিউর আঞ্চলিক অফিস বাংলাদেশ-নেপালের ডিরেক্টর মাইকেল সামসার, সলিডারিদাদ নেটওয়ার্কের সেলিম রেজা হাসান, ইউনিডোর ন্যাশনাল প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর কে এম আসাদুন নূর, সাইটসেভারসের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং আইএফসির নিশাত শহীদ চৌধুরী। এছাড়াও ইউএনডিপি ও ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের লেবার অ্যাটাশে লিনা খান, পাকিস্তান হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাশে জাইন আজিজ, ডেনিশ দূতাবাসের হেড অব ট্রেড নাদিয়া ইতানি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবু-সৈয়দ বেলাল এবং ইরান দূতাবাস ও কোট্রার প্রতিনিধিরা।

ব্র্যান্ড ও বায়ার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এইচঅ্যান্ডএম, ডিকাথলন, বেস্টসেলার, টেক্সকো, সিঅ্যান্ডএ, টিউডরনাইট, ক্যারিফোর, সলো, কাইজার বেক্লেইডাংস জিএমবিএইচ, এটাম ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং এশিয়া লি., সেলিয়, মেয়োরাল, লালিথসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ এবং ইডকলের ইউনিট হেড তানভির ইবনে বাশার

আইএইচও/একিউএফ