লাইফস্টাইল

ইফতারে চিনি মেশানো শরবত যাদের জন্য ক্ষতিকর

রোজায় সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর ইফতারের সময় অনেকেই ঠান্ডা ও মিষ্টি পানীয় দিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে চান। বিশেষ করে ফলের শরবত বা নানা ধরনের জুস অনেকেরই ইফতারের টেবিলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, অতিরিক্ত চিনি মেশানো শরবত সবার জন্য সমান উপকারী নয়। বরং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

রোজা ভাঙার পর শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে চায়। এই সময় অনেকেই শরবতে বেশি চিনি যোগ করেন। এতে স্বাদ বাড়লেও শরীরে অতিরিক্ত শর্করা প্রবেশ করে, যা বিশেষ কিছু রোগে ভোগা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই কারা ইফতারে চিনি মেশানো শরবত থেকে দূরে থাকবেন, তা জানা জরুরি।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বড় ঝুঁকি

যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য চিনি মেশানো শরবত বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের পানীয় দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, চোখ ও হৃদযন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইফতারে তাদের চিনি ছাড়া শরবত বা স্বাভাবিক ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

যারা ওজন কমাতে চান

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ইফতারে চিনি মেশানো জুস বা শরবত থেকে দূরে থাকাই ভালো। কারণ এসব পানীয়ে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত চিনি শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি যোগ করে। নিয়মিত এমন পানীয় খেলে ওজন কমানোর পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে কম ক্যালরিযুক্ত পানীয় বা প্রাকৃতিক ফল বেছে নেওয়া ভালো।

আরও পড়ুন: খেজুরের স্মুদি বানাবেন যেভাবে রোজার ক্লান্তি দূর করবে চিয়া নারকেল শরবত অল্প সময়ে বানিয়ে নিন কমলার শরবত গ্যাস্ট্রিক ও হজমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা

অনেকেরই ইফতারের পর পেট ফাঁপা, অস্বস্তি কিংবা অম্লতার সমস্যা দেখা দেয়। যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। চিনি বেশি থাকলে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং পেটে অস্বস্তি, গ্যাস কিংবা অম্লতা বাড়তে পারে। তাই এসব সমস্যায় ভুগলে ইফতারে হালকা ও সহজপাচ্য পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও সতর্কতা

যারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদেরও চিনি গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিনি দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ এবং বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই ধরনের সমস্যা ধীরে ধীরে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়ের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়াই ভালো।

ইফতারে কী পান করবেন?

চিনি মেশানো শরবতের বদলে ইফতারের টেবিলে রাখতে পারেন কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয়। যেমন- প্রাকৃতিক ফলের জুস (চিনি ছাড়া), ডাবের পানি, লেবুর শরবত, তাজা ফল বা ফলের সালাদ, শসা বা পুদিনা মিশ্রিত ঠান্ডা পানি। এগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় পানি, ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ঝুঁকিও কম থাকে।

ইফতার শুধু পেট ভরানোর সময় নয়, বরং সারাদিনের রোজার পর শরীরকে সঠিক পুষ্টি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাই এই সময় কী খাচ্ছেন বা পান করছেন, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। অতিরিক্ত চিনি মেশানো শরবতের বদলে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নিলে শরীর থাকবে সতেজ, আর স্বাস্থ্যও থাকবে সুরক্ষিত। রমজানে সুস্থ থাকতে সংযমী খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, মায়ো ক্লিনিক

জেএস/