অর্থনীতি

শেষের টানে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বেড়েছে লেনদেন

ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে।

সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। মূলত লেনদেনের শেষদিকে বাজারে ক্রেতার আধিক্য দেখা দেওয়ায় সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিললো।

এর আগে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। একদিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৩১ পয়েন্ট কমে যায়। তবে পরের তিন কার্যদিবস টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকে শেয়ারবাজার।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে, লেনদেনের শুরুতে সূচকে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে। তবে, অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। আবার দরপতনের শঙ্কা পেয়ে বসে বিনিয়োগকারীদের।

তবে, দুপুর ১২টার দিক থেকে বাজারে ক্রেতারা বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিক্রেতার তুলনায় বাজারে ক্রেতার আধিক্য থাকায় দাম বাড়তে থাকে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩০৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির। আর ৫০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫টির এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২১টির দাম অপরিবর্তিত আছে। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেনি।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৬৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকার। ১৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, একমি পেস্টিসাইড এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১১১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪০টির এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেনহয় ৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা।

এমএএস/এএমএ